দোহায় অনুষ্ঠিত রাইজিং স্টার এশিয়া কাপে যুব পর্যায়ে পাকিস্তান ভারতের ওপর দারুণ প্রতিশোধ নিয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে টানা তিনবার হারিয়ে হ্যাটট্রিক করেছিল ভারত, কিন্তু এবার পরিস্থিতি উল্টো। ব্যাটিংয়ে বিপর্যয়ে পড়ে মাত্র ১৩৬ রানে অলআউট হয় ভারত ‘এ’ দল, যা সহজেই টপকে ৮ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে পাকিস্তান শাহিন্স।
দোহায় টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভালোই শুরু করেছিল ভারত। উবেদ শাহের প্রথম বলেই চার মেরে আত্মবিশ্বাসী সূচনা করেন বৈভব সূর্যবংশী। এরপর শাহিদ আজিজকে একটি চার ও একটি ছয় মারেন। তবে শুরুটা ভালো হলেও খুব দ্রুতই ভারতের ব্যাটিং লাইন ধসে পড়ে। চতুর্থ ওভারে ওপেনার প্রিয়াংশ আর্য মাত্র ১০ রান করে শহিদের শিকার হন।

আরও
মন্থর পিচে বৈভব চেষ্টা করেছিলেন বড় শট খেলতে, কিন্তু বল ঠিকমতো ব্যাটে আসছিল না। অভিজ্ঞ সুফিয়ান মুকিম দশম ওভারে তাকে আউট করলে ভারতের ইনিংসে বড় ধস নামে। বৈভব ৫ চার ও ৩ ছয়ের সাহায্যে ২৮ বলে ৪৫ রান করে ফিরে যান। এর আগেই নমন ধীর ২০ বলে ৩৫ রান করে সাজঘরে ফিরেছিলেন। পরে হর্ষ দুবে (১৯) কিছুটা লড়াই করলেও ১৯ ওভারেই ১৩৬ রানে গুটিয়ে যায় ভারতের ইনিংস।
টার্গেট তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায়। ভারতের পেসার যশ ঠাকুর দ্বিতীয় ওভারে ১৪ রান দেন এবং পঞ্চম ওভারে গুরজপনীত সিংহের ওভারে ওঠে ১৮ রান। যেখানে পাকিস্তানের বোলাররা নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ বজায় রেখেছিলেন, ভারতের বোলিং আক্রমণে ছিল অস্থিরতা ও অনিয়ম।


পাকিস্তানের পক্ষে ম্যাচের নায়ক ছিলেন মাজ সাদাকাত। তার ক্যাচ দুইবার সহজ সুযোগে ফেলে ভারতীয়রা—প্রথমবার শূন্য রানে, পরে ৫৩ রানে। বিতর্কিত দশম ওভারসহ বেশ কয়েকটি মুহূর্ত ম্যাচে উত্তেজনা তৈরি করে। তবে সবশেষে সাদাকাতই ব্যাট হাতে ভারতের আশা শেষ করে দেন। ৭ চার ও ৪ ছয়ের সাহায্যে ৪৭ বলে অপরাজিত ৭৯ রানে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। ভারতের হয়ে যশ ও সুযশ একটি করে উইকেট নেন।
পাকিস্তান শাহিন্সের এই জয় এশিয়া কাপ যুব ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন অধ্যায় যোগ করল।












