সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যুদ্ধবিমান ক্রয়চুক্তি নিয়ে নতুন কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। চুক্তি হলে রিয়াদকে অত্যাধুনিক এফ–৩৫ স্টেলথ ফাইটার সরবরাহ করতে পারে ওয়াশিংটন। তবে ইসরায়েল স্পষ্ট জানিয়েছে—সৌদি আরব এফ–৩৫ চাইলে প্রথমে তাদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। ইসরায়েলের এই শর্তই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
আগামী মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। বৈঠকে নিরাপত্তা জোট, এফ–৩৫ সরবরাহ, এবং ইসরায়েল–সৌদি স্বাভাবিকীকরণসহ গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

আরও
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত মাসে এক টেলিফোন আলাপে সৌদি ক্রাউন প্রিন্সকে জানান, গাজায় যুদ্ধ শেষ হওয়ায় এখন রিয়াদের জন্য ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে। গত শুক্রবারও সাংবাদিকদের কাছে একই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ট্রাম্প।
ইসরায়েল যুদ্ধবিমান বিক্রির বিপক্ষে সরাসরি অবস্থান না নিলেও স্পষ্ট শর্ত জুড়ে দিয়েছে। দেশটির এক কর্মকর্তা এক্সিওসকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে—কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি ছাড়া সৌদির কাছে এফ–৩৫ হস্তান্তর করা ঠিক হবে না এবং তা অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আরেক কর্মকর্তা জানান, তুরস্ককে এফ–৩৫ বিক্রিতে আপত্তি থাকলেও সৌদির ক্ষেত্রে উদ্বেগ কম, যদি এটি আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হয়।
উল্লেখযোগ্য হলো—২০২০ সালে আব্রাহাম চুক্তির পর সংযুক্ত আরব আমিরাতকে এফ–৩৫ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিলেও ইসরায়েল কঠোর নিরাপত্তা শর্ত আরোপ করেছিল, যার ফলে আজও চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়নি। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে কেবল ইসরায়েলের কাছেই এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান রয়েছে, এবং এই সামরিক শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতেই দেশটি সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: এক্সিওস













