হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকের সময় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাকে অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও অস্বস্তিকর প্রশ্ন করে আলোচনায় এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সিরীয় প্রেসিডেন্টকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেন, “তোমার স্ত্রী কয়জন?”
ওই বৈঠকে শুরু থেকেই কিছুটা অস্বস্তিকর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। সূত্র জানায়, শারা মূল প্রবেশপথ দিয়ে নয়, পাশের একটি গেট দিয়ে হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করেন। প্রবেশের সময়ই সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নে বিব্রত হতে হয় তাকে। ভেতরে প্রবেশের পর ট্রাম্প আল-শারাকে নিজের ব্র্যান্ডের পারফিউম উপহার দিতে গিয়ে বলেন, “এটি সবচেয়ে ভালো পুরুষদের সুগন্ধি।” পরে আরেকটি বোতল এগিয়ে দিয়ে মজা করে বলেন, “এটা তোমার স্ত্রীর জন্য। তবে বলো তো, তোমার কয়জন স্ত্রী?”
আল-শারা হাসতে হাসতে জানান, তার মাত্র একজন স্ত্রী—লতিফা আল–দ্রৌবি। তখন ট্রাম্প হাস্যরসের ভঙ্গিতে বলেন, “তোমাদের ক্ষেত্রে কখনো নিশ্চিত থাকা যায় না।” ইসলামে একাধিক স্ত্রী রাখার অনুমতির প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
আরও
ওয়াশিংটন সফর ছিল সিরীয় প্রেসিডেন্টের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ। তিনি দাবি করেন, তার দল হায়াত তাহরির আল-শাম এখন পশ্চিমা বিশ্বের জন্য হুমকি নয়, বরং তারা প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনব্যবস্থার বিকল্প বাস্তবতা তৈরি করছে। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে তার এই সাক্ষাৎ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও কূটনৈতিক ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করেছে।
সফরের পরদিন সিরীয় সরকার ঘোষণা দেয়, তারা আইসিসবিরোধী বৈশ্বিক জোটে যোগ দিয়েছে। এর বিনিময়ে ট্রাম্প প্রশাসন সিরিয়ার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আরোপিত ‘সিজার অ্যাক্ট’ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদে আংশিক ছাড় দেয়। বৈঠক শেষে ট্রাম্প বলেন, “সে এসেছে এক কঠিন জায়গা থেকে, এবং সেও একজন কঠিন মানুষ। আমি তাকে পছন্দ করি।













