মধ্যপ্রাচ্যে আবারও চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে ইরান ও ইসরায়েলকে ঘিরে। মাত্র ১২ দিনের সংঘাতে ইরান যে উন্নত সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে, তা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ইসরায়েলের বহুল আলোচিত ‘আয়রন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রায় অকার্যকর করে দিয়েছে। এমনকি প্রয়োজনে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে দেশটি।
সাবেক মার্কিন সেনা কর্নেল ডগলাস ম্যাকগ্রেগর এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এতটাই আধুনিক যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, ইরান আক্রমণাত্মক নয়, বরং প্রতিরক্ষামুখী কৌশল গ্রহণ করেছে। তার ভাষায়, “ইরান জানে কীভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হয়, তবে তারা যুদ্ধ শুরু করতে চায় না।”

আরও
তুর্কি বিশ্লেষক ইবরাহিম কালাশের দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের আয়রন ডোম কার্যত অকেজো হয়ে পড়ে। এতে ইসরায়েলের “অজেয় ভাবমূর্তি” মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার সময় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে হয়—যা দেশটির জন্য বড় ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে।
অন্যদিকে পশ্চিমা প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রচলিত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি দিয়ে ঠেকানো প্রায় অসম্ভব। ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ফাতাহ সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের যেকোনো সুরক্ষা বলয় ভেদ করে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এর গতি ও নির্ভুলতা ইরানকে এক ভয়ংকর সামরিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক প্রদর্শনী শুধু ইসরায়েল নয়, সমগ্র পশ্চিমা জোটের জন্যও এক শক্তিশালী সতর্কবার্তা। প্রয়োজনে ইরান ইসরায়েলের কৌশলগত স্থাপনা—যেমন ডিমোনা পারমাণবিক চুল্লি বা হাইফা বন্দর—লক্ষ করে আঘাত হানতে পারে। এই বাস্তবতা এখন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ভারসাম্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।













