পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ইস্ত্যানবুলে চলা তিনদিনের শান্তি আলোচনায় কোনো সমাধান আরো বের করতে পারেনি—ফলে পুরো প্রচেষ্টা ভেস্তে গেছে। আলোচনায় অন্তর্বর্তী ফলাফল না পাওয়ায় পাকিস্তান সম্পূর্ণভাবে আফগানিস্তানকেই দায়ী করেছে এবং অভিযোগ করেছে, আফগান ভূখণ্ডে সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) কার্যক্রম রোধে তাদের বিরুদ্ধে সহায়তা করেনি।
অভিযোগ ও বিতর্কের মধ্যে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, যদি আফগানিস্তান থেকে আর কোনো আত্মঘাতী বা বৃহৎ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয় তাহলে প্রয়োজন হলে তালেবান সরকারকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হবে; তাদের নেতাদের আবার গুহায় লুকিয়ে রাখা হবে—এমন হুমকিও তিনি দিয়েছেন। মন্ত্রীর এই মন্তব্যগুলো ২০ বছরের যুদ্ধবির্ত্তমান পরিস্থিতি এবং তালেবানের অতীত ভূমিকা প্রসঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেয়।
আসিফ বলেন, বন্ধুবিভিন্ন দেশের অনুরোধে পাকিস্তান শান্তিচুক্তির পথ খুলেছিল, কিন্তু তালেবানের দফা মন্তব্য ও ব্যবহার দেখিয়েছে তাদের ইচ্ছা সত্যান্বেষণ নয় এবং তাদের নিজস্ব বিব্রতকর ভেতরকের কলহ আছে। তিনি সতর্ক করে উল্লেখ করেন, তালেবান যদি যুদ্ধ বা সন্ত্রাস ছড়িয়ে দিতে চায়, পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা তাদের নির্বাপনে যথেষ্ট হবে।
আরও
প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও দাবি করেছেন, তালেবান নিজেদের অস্তিত্ব ধরে রাখতে ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বজায় রাখতে যুদ্ধকে অব্যাহত রাখছে; ফলে তারা আফগান জনগণকেই বিপন্ন করছে। তার ভাষায়, আফগানিস্তান বহুবার বৈদেশিক শক্তির ‘খেলার মাঠ’ ছিল—এজন্য এ দেশকে কেউ কোনো সাম্রাজ্যের সাফল্যের প্রতীক ভাববে না; বরং এর মাটিতে সাধারণ মানুষের মৃত্যু ও কষ্টের ইতিহাস আছে।
শেষাংশে খাজা আসিফ বলছেন, পাকিস্তান আর বেশি সহ্য করবে না; যদি আফগান ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা হয় তবে তার কড়া জবাব দেওয়া হবে। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, কোনো পক্ষ যদি সংঘাত আগিয়ে নেয়, তবে তার দায়ভার নিজেকেই বুঝতে হবে এবং পরিস্থিতি আরো জটিল ও ধ্বংসাত্মক দিকে যেতে পারে।









