মধ্যপ্রাচ্যে দশকের পর দশক ধরে চলা মতপার্থক্য ও সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে নতুন যুগের সূচনার সুযোগ এসেছে ইরান ও সৌদি আরবের সামনে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিজেদের পুরনো বিরোধ ভুলে সহযোগিতার পথে হাঁটলে এটি শুধু অঞ্চল নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্য শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। চীনের মধ্যস্থতায় গঠিত এই সম্পর্ক এখন আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে এক নতুন ভারসাম্য তৈরি করেছে, যা দীর্ঘদিনের শিয়া-সুন্নি বিভাজন ভেঙে ঐক্যের বার্তা দিয়েছে।
সম্প্রতি উভয় দেশের মধ্যে যে পুনর্মিলন ঘটেছে, তা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উত্তেজনা প্রশমিত করার এক বড় সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান ও সৌদি আরব এখন চাইলে তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বৈচিত্র্যময় উন্নয়ন কাঠামোর দিকে এগিয়ে যেতে পারে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একে অপরের শক্তিকে পরিপূরক করে তুলতে পারে।
তাদের এই সহযোগিতামূলক মডেল জিসিসি, আরব লীগ এবং ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) অন্যান্য দেশেও সম্প্রসারিত হতে পারে। প্রতিযোগিতার বদলে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সহযোগিতা এবং ভাগ করে নেওয়ার মানসিকতার ওপর ভিত্তি করে এটি মুসলিম বিশ্বের ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের সুযোগ এনে দিতে পারে। কারণ, ইরান-সৌদি প্রতিদ্বন্দ্বিতা ইসলামের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং শত্রু শক্তিগুলো এ বিভাজনকে ব্যবহার করেছে মুসলমানদের পরস্পরের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে।
আরও
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে উভয় দেশকেই বুঝতে হবে যে, একে অপরকে ধ্বংস করা অসম্ভব। বরং আস্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে অর্থনীতি, নিরাপত্তা, গোয়েন্দা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করলে তারা আঞ্চলিক প্রভাবকে আরও স্থিতিশীল করতে পারবে। এ জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা এবং বহিরাগত হস্তক্ষেপমুক্ত একটি যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো।
সৌদি আরব ও ইরানের ঐক্য কেবল তাদের জনগণের জন্যই নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্যও এক ইতিবাচক বার্তা বয়ে আনবে। সহযোগিতার মাধ্যমে তারা মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বে নতুন উদাহরণ স্থাপন করতে পারে—যেখানে বিভাজনের বদলে ঐক্য, সংঘাতের বদলে সংলাপ, এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার বদলে পারস্পরিক উন্নয়নই হবে নতুন পথচলার ভিত্তি।













