ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাসের হাতে আটক থাকা আরও ১৩ জীবিত ইসরায়েলি নাগরিককে রেড ক্রসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রতিশ্রুত মোট ২০ জিম্মির মুক্তি সম্পন্ন হলো। এর আগে সোমবার সকালে প্রথম দফায় সাতজন জিম্মিকে রেড ক্রসের কাছে হস্তান্তর করেছিল হামাস। খবর টাইমস অব ইসরায়েল-এর।
যদিও এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) কিংবা রেড ক্রস কেউই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। একইভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তির বিষয়েও কোনো সরকারি ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই আজ ইসরায়েলে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার সফরের অংশ হিসেবে তিনি ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেট-এ ভাষণ দেবেন। পরে মিশরের শারম আল শেখে অনুষ্ঠিতব্য যুদ্ধবিরতি বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেবেন, যেখানে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারসহ অন্তত ২০টি দেশের নেতা উপস্থিত থাকবেন।
আরও
টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে লাল গালিচায় নামার পর ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জোগ ও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ করে বলেন, “এটা এক অসাধারণ দিন, সম্ভবত তোমাদের সেরা দিন।” উত্তরে নেতানিয়াহু বলেন, “এটা ইতিহাস।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে মিশর সম্মেলনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক স্টিফেন জিউনেসের মতে, এবার ওয়াশিংটনের সক্রিয় সমর্থন থাকায় যুদ্ধবিরতি ভাঙা নেতানিয়াহুর জন্য কঠিন হবে। তবে দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি সতর্ক করে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই শান্তি উদ্যোগ মূলত জিম্মি ও বন্দি বিনিময় পর্যন্তই সীমাবদ্ধ; এতে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির জন্য কোনো বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নেই।












