মাদাগাস্কারে প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি রাজোয়েলিনার সরকারের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভ নতুন মোড় নিয়েছে। রাজধানী আন্তানানারিভোতে হাজারো বিক্ষোভকারীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর একটি অংশ যোগ দিয়েছে, যা দেশজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে। শনিবার এ ঘটনা ঘটে, যখন সরকারের প্রতি ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে।
বিদ্যুৎ ও পানির সংকট ঘিরে গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলন দিন দিন তীব্র হচ্ছে। তরুণদের নেতৃত্বে শনিবার বিক্ষোভকারীরা প্রথমবারের মতো রাজধানীর প্রতীকী মে থার্টিন চত্বরে প্রবেশ করেন। এটি এখন পর্যন্ত হওয়া সবচেয়ে বড় বিক্ষোভগুলোর একটি। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক কেনিয়া ও নেপালের “জেন–জি বিক্ষোভ” থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই মাদাগাস্কারেও তরুণরা রাস্তায় নেমেছেন।
বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ স্টান গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করলে কিছু সেনাসদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং পরবর্তীতে তারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন। সোয়ানিয়েরানা অঞ্চলের একটি ঘাঁটি থেকে সেনাসদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বলেন, তারা বেতনের বিনিময়ে নিজেদের ভাইবোনদের ওপর গুলি চালানোর আদেশ মানবেন না। একই সঙ্গে তারা বিমানবন্দরে কর্মরত সেনাদের কোনো উড়োজাহাজ উড্ডয়ন না করতে আহ্বান জানান।
আরও
আন্তানানারিভোর উপকণ্ঠে সেনা ব্যারাকগুলোর একটিতে বিশেষ ইউনিট সিএপিএসএটির সদস্যরাও প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ ২০০৯ সালে রাজোয়েলিনার ক্ষমতায় আসার পেছনে এই ইউনিটই মুখ্য ভূমিকা রেখেছিল।
এদিকে নতুন সশস্ত্র বাহিনীবিষয়ক মন্ত্রী দেরামাসিনজাকা মানানৎসোয়া রাকোতোআরিভেলো সেনাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “যেসব সহকর্মী আমাদের সঙ্গে মতভেদে আছেন, আমরা তাঁদের আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।” তিনি আরও জানান, মালাগাসি সেনাবাহিনী দেশের মধ্যস্থতাকারী ও চূড়ান্ত প্রতিরক্ষা বলয় হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।












