২০২৫ সালের সামরিক শক্তি সূচকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে বিরাট ব্যবধান স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। বিশ্ব সামরিক সক্ষমতা মূল্যায়নকারী সংস্থা গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার (Global Firepower)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক সক্ষমতা, জনশক্তি, প্রতিরক্ষা বাজেট ও বিমান শক্তিসহ সবক্ষেত্রেই পাকিস্তান আফগানিস্তানের তুলনায় বহু গুণ এগিয়ে রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার সূচকে পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়িয়েছে ০.২৫, যা দেশটিকে বিশ্বে ১২তম স্থানে অবস্থান দিয়েছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের স্কোর ২.৬৪, যা সামরিক দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়; দেশটির অবস্থান তালিকার ১১৮তম স্থানে।
জনশক্তি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার দিক থেকেও ব্যবধানটি স্পষ্ট। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীতে ৫ লাখেরও বেশি সক্রিয় ও আধাসামরিক সদস্য রয়েছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানে কোনো পূর্ণাঙ্গ নিয়মিত সেনাবাহিনী নেই, এবং তাদের সক্রিয় সদস্য সংখ্যা প্রায় শূন্য। প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও আধুনিক অস্ত্র ব্যবহারে পাকিস্তানের সেনারা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও ন্যাটো-সমর্থিত প্রশিক্ষণের কারণে অনেক বেশি দক্ষ।
আরও
প্রতিরক্ষা বাজেটেও দুই দেশের মধ্যে বিশাল ফারাক। পাকিস্তানের বার্ষিক প্রতিরক্ষা বাজেট ৭.৬৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে আফগানিস্তানের বাজেট মাত্র ২৯ কোটি ডলার। এই পার্থক্য সামরিক সরঞ্জাম, অস্ত্রভান্ডার ও প্রযুক্তি উন্নয়নে পাকিস্তানকে অনেক এগিয়ে রেখেছে। বিমান সক্ষমতার ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের রয়েছে ১,৪০০টিরও বেশি বিমান, আর আফগানিস্তানের হাতে আছে মাত্র ৯টি বিমান—যার অধিকাংশই সীমিত ব্যবহারের উপযোগী।
অন্যদিকে ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে আফগানিস্তান একটি ল্যান্ডলকড দেশ, ফলে তাদের কোনো নৌবাহিনী নেই। বিপরীতে পাকিস্তানের একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক নৌবাহিনী রয়েছে, যা ভারত মহাসাগর অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করে আছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সীমিত অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ঘাটতির কারণে আফগানিস্তান প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে, যেখানে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও তুরস্কের সহায়তায় দ্রুত আধুনিকায়নের পথে এগিয়ে চলেছে।
সূত্র: Global Firepower – Afghanistan vs Pakistan Military Comparison 2025









