গাজামুখী ত্রাণবাহী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র অধিকারকর্মীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে চাওয়া এই নৌবহর থেকে আটক কর্মীদের কয়েকদিন ধরে খাবার না দিয়ে, শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তাদের হাঁটু গেড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকতে বাধ্য করা হয়েছে এবং টয়লেটের পানি পান করতে হয়েছে।
আল জাজিরা জানায়, গত বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ৪৫০ কর্মীকে আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী। তারা অবরুদ্ধ গাজায় প্রতীকী সহায়তা পাঠাতে নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছিলেন। মুক্তি পাওয়া ইতালীয় কর্মী সিজার তোফানি রোমে ফিরে জানান, ইসরায়েলি বাহিনী তাদের সঙ্গে “ভয়াবহ আচরণ” করেছে এবং বারবার হয়রানি করেছে। একইভাবে ইতালির ইসলামিক ইউনিয়নের সভাপতি ইয়াসিন লাফ্রাম জানান, সেনারা অস্ত্র তাক করে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে, যা কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অগ্রহণযোগ্য।

আরও
ইতালীয় সাংবাদিক সাভারিও টমাসি অভিযোগ করেন, সৈন্যরা ওষুধ আটকে রাখে এবং আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে ‘বানরের মতো’ আচরণ করে। তিনি জানান, সেনারা গ্রেটা থুনবার্গ, নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি ম্যান্ডলা ম্যান্ডেলা ও ইউরোপীয় আইনপ্রণেতাদের নিয়ে উপহাস করেছে। সাংবাদিক লরেঞ্জো ডি’আগোস্তিনো জানান, তার মালপত্র ও অর্থ চুরি করেছে ইসরায়েলিরা এবং কুকুর ও লেজার লাইট দিয়ে ভয় দেখানো হয়েছে।
অন্যদিকে অধিকারকর্মী পাওলো ডি মন্টিস জানান, তাকে হাত বাঁধা অবস্থায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রিজন ভ্যানে আটকে রাখা হয়েছিল। তাকে সবসময় মাথা নিচু করে রাখতে বাধ্য করা হয় এবং সামান্য উপরে তাকালেই প্রহরীরা আঘাত করত। তিনি বলেন, “আমাদের চার ঘণ্টা হাঁটু গেড়ে থাকতে হয়েছিল।”
মালয়েশিয়ার গায়িকা ও অভিনেত্রী হেলিজা হেলমি এবং তার বোন হাজওয়ানি হেলমি জানান, তাদের টয়লেটের পানি পান করতে বাধ্য করা হয় এবং তিন দিন কোনো খাবার দেওয়া হয়নি। তারা বলেন, অসুস্থদের প্রতি সেনারা নির্মম আচরণ করেছে, এমনকি মৃত্যুর আশঙ্কা থাকলেও চিকিৎসা দেয়নি। মুক্তিপ্রাপ্ত কর্মীরা আরও জানান, জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গকেও নির্যাতন করা হয়েছে এবং তাকে জোর করে ইসরায়েলি পতাকায় চুমু খাওয়ানো হয়েছে। এসব ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে ইসরায়েলের প্রতি নতুন করে নিন্দা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।













