যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সোমবার গাজার সংঘাত থামানোর উদ্দেশ্যে ২০ দফার একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব জানান। সূত্রের বরাত দিয়ে সৌদি সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া জানিয়েছে—হামাস আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে ফিলিস্তিনি ও মিশরের কাছে নির্দিষ্ট ধরনের আক্রমণাত্মক অস্ত্র হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে; তবে এ খবর এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। হামাস একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিমান হামলা দ্রুত বন্ধ করার দাবি তুলেছে যাতে তারা বন্দি ও নিহত ইসরায়েলিদের শরীর সংগ্রহ ও হস্তান্তরের কাজ শেষ করতে পারে।
বিবিসি ও অন্যান্য সূত্র উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, হামাস কিছু রকেট ও আক্রমণাত্মক সামগ্রী হস্তান্তরে রাজি থাকতে পারে—তবে নিজেরা রাইফেল বা রক্ষণাত্মক অস্ত্র নিজেদের কাছে রাখতে চান। তাদের যুক্তি, উৎপীড়িত এলাকায় নিজের নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য রক্ষণাত্মক অস্ত্র থাকা দরকার। অপরদিকে আল-আরাবিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ক্ষমতা পেয়েছে ইসরায়েলকে আশ্বাস দিতে যে চুক্তি হলে পুনরায় আক্রমণ শুরু করা হবে না এবং ইসরায়েলি সেনারা গাজা ছেড়ে চলে যাবে।
হামাসের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে পূর্ণ যুদ্ধবিরতি, ইসরায়েলি সেনাদের ২০২৪ সালের জানুয়ারির অবস্থানে ফিরে যাওয়া (অর্থাৎ জনবহুল এলাকাগুলো থেকে সেনাবাহিনী সরানো), এবং আলোচনার সময় প্রতিদিন নির্দিষ্ট ঘণ্টা পর্যন্ত ইসরায়েলের বিমান ও গোয়েন্দি ড্রোন পরিচালনা বন্ধ রাখা। বন্দি মুক্তির দিন এসব নিষেধাজ্ঞা আরও দীর্ঘ (১২ ঘণ্টা) রাখতে বলা হয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনার সময় এসব শর্ত ধারাবাহিকভাবে মানতে হবে—এটি কয়েকদিন বা সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী আলোচনার সূচক হতে পারে।
আরও
ফিলিস্তিনি কূটনৈতিক সূত্রগুলো এএফপি-কে জানিয়েছে, হামাস জিম্মিদের আবর্তন ও অবস্থান অনুসন্ধানের জন্য ইসরায়েলের উড়োজাহাজ ও গোয়েন্দি ড্রোন বন্ধ রাখার দাবি অনুসরণ করতে বলছে এবং গাজা সিটি থেকে সেনা সরিয়ে নেবার ওপর জোর দিচ্ছে। উল্লেখ্য, শেষ যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েল ইতোমধ্যে ফাতাহ ও হামাসের প্রায় ৫০ জন শীর্ষ নেতিকে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তাব অস্বীকার করেছিল; হামাস এবার বলছে, এসব নেতাদের মুক্তিই তাদের জন্য পুনরাবৃত্তি ছাড়া শেষ সুযোগ।
সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি এখনও অস্থির এবং বিভিন্ন সূত্রে সংবাদের পার্থক্য রয়ে গেছে—কিছু খবর হামাসের সম্মতির কথা বললেও তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। আলোচনার ভবিষ্যৎ ও চূড়ান্ত শর্তাবলী নির্ভর করছে মধ্যস্থতাকারী শক্তি, দুটি পক্ষের চূড়ান্ত সম্মতি ও মাঠে বাস্তব প্রয়োগের ওপর।












