দীর্ঘ দুই দশক সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ শেষে আবারও দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে মিশরের বিখ্যাত ‘ভ্যালি অব দ্য কিংস’ বা রাজাদের উপত্যকায় অবস্থিত ফেরাউন আমেনহোটেপ তৃতীয়ের সমাধি। প্রাচীন মিশরের অষ্টাদশ রাজবংশের এই শাসক খ্রিস্টপূর্ব ১৩৯০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত নীলনদের তীরে রাজত্ব করেন।
লুক্সরের পশ্চিম তীরে পাহাড় কেটে নির্মিত এই বিশাল সমাধিটি প্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৭৯৯ সালে দুই ইউরোপীয় অভিযাত্রীর মাধ্যমে। মিশরের প্রত্নতত্ত্ব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবিষ্কারের পরপরই সমাধির ভেতর থেকে সোনার কফিনসহ মূল্যবান নিদর্শনগুলো লুট হয়ে যায়।

আরও
জাপানি প্রত্নতত্ত্ববিদদের নেতৃত্বে তিন ধাপে ২০ বছর ধরে সমাধিটির পুনর্নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এতে ফেরাউন ও তার স্ত্রী রানী টিয়ের দেয়ালচিত্রগুলো পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। মিশরের সর্বোচ্চ প্রত্নতাত্ত্বিক পরিষদের মহাসচিব মোহাম্মদ ইসমাইল জানান, সমাধিটি এক অসাধারণ নিদর্শন, যেখানে এখনো মূল কফিন বাক্সের ফ্রেম অক্ষত অবস্থায় রয়েছে।
প্রায় ১১৮ ফুট দীর্ঘ ও ৪৫ ফুট গভীর করিডরের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করা যায় সমাধির মূল কক্ষে, যেখানে ফেরাউন আমেনহোটেপের সমাধির পাশাপাশি তার স্ত্রী ও কন্যার জন্যও পৃথক কক্ষ রয়েছে। দেয়ালে খোদাই করা শিলালিপিতে ‘বুক অব দ্য ডেড’-এর দৃশ্য চিত্রিত হয়েছে, যা প্রাচীন মিশরীয়দের পরকাল বিশ্বাসের প্রতিফলন।
ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ইজিপশিয়ান সিভিলাইজেশনের তথ্যমতে, ফেরাউনের মমিটি পরে তার দাদা আমেনহোটেপ দ্বিতীয়ের সমাধিতে স্থানান্তর করা হয়েছিল। বর্তমানে সেটি কায়রোর ওই জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। এ পুনরায় উদ্বোধন এসেছে গিজার গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম উদ্বোধনের কয়েক সপ্তাহ আগে, যা ১ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।












