ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে এবং আটকা পড়া সব ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার জন্য রাজি হয়েছে। তবে তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় কোনো প্রকার বিদেশি শাসন বা নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া হবে না।
মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদনে শুক্রবার (৩ অক্টোবর) জানা যায়, হামাসের এই ঘোষণার পর ট্রাম্প দ্রুত ইসরায়েলকে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধের নির্দেশ দিতে আহ্বান জানান। এর পরপরই ইসরায়েলি সরকার তাদের সামরিক বাহিনীকে গাজা দখলের অভিযান থামাতে নির্দেশ দেয়।
গত সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ফিলিস্তিনের গাজায় দুই বছর ধরে চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধের জন্য ট্রাম্প ২০ দফার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন। এরপর শুক্রবার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী রোববার পর্যন্ত হামাস যদি প্রস্তাব মেনে না নেয়, তবে তারা ‘নরকযন্ত্রণা’ ভোগ করবে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হামাস সব জিম্মিকে মুক্তি দিতে রাজি হয়, তবে বন্দিবিনিময়ের জন্য মাঠপর্যায়ের শর্ত মানার কথা জানায়।
আরও
যদিও হামাস জিম্মি মুক্তির বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে, তারা পুরো ২০ দফা পরিকল্পনায় একমত নয়। বিশেষত গাজা উপত্যকার ভবিষ্যৎ শাসনভার নিয়ে মতপার্থক্য বিদ্যমান। হামাস জানিয়েছে, তারা গাজার শাসনভার একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট সংস্থার হাতে হস্তান্তর করতে চায়, যা ফিলিস্তিনি জাতীয় ঐকমত্য এবং আরব ও ইসলামি বিশ্বের সমর্থনের ভিত্তিতে গঠিত হবে।
হামাস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি দখলদারত্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা গাজাকে নিরস্ত্রীকরণ করবে না। দোহায় হামাসের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি ওসামা হামদানও বলেছেন, গাজায় কোনো বিদেশি শাসন তারা মেনে নেবে না, এমনকি অল্প সময়ের জন্যও নয়। হামাসের ইতিবাচক সাড়ার পর ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, এখন বাকি বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালানো হবে।













