ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তিনি বলেন, এটি দেশের নৈতিক বিশ্বাস ও ধর্মীয় নীতির অংশ এবং সর্বোচ্চ নেতার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশটি কখনো ধ্বংসাত্মক অস্ত্রনীতি অনুসরণ করবে না।

পেজেশকিয়ান আরও উল্লেখ করেন, গত জুনে দেশটি যে ১২ দিনের সংঘাতের সম্মুখীন হয়েছিল, সেসময় ইরানের জনগণ আগ্রাসীদের পরিকল্পনা উন্মোচন করে প্রতিরোধ করেছে। দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও মিডিয়ার চাপ সত্ত্বেও জাতীয় ঐক্য অক্ষুণ্ণ রয়েছে। তিনি পুনরায় নিশ্চিত করেন, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে আগ্রহী হয়নি, হচ্ছে না এবং ভবিষ্যতেও হবে না।
আরও
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সন্দেহ থামেনি। ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন সূত্র মনে করছে, ইরানের কাছে উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তি রয়েছে, যা প্রয়োজনে দ্রুত অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। এই আশঙ্কার কারণে তেহরানের ওপর পুনর্বহাল নিষেধাজ্ঞার চেষ্টা চলছে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ১৯ সেপ্টেম্বর ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের প্রস্তাব পাস হয়। যদি দ্রুত কোনো চুক্তি না হয়, ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তির আওতায় প্রত্যাহার করা ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনর্বহাল হবে।
তবে ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে অনড়। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা অর্থহীন। তিনি সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে সমাধান স্বীকার করা শুধু আরও চাপ ও অনন্ত দাবির পথ উন্মুক্ত করবে। একই সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইউরোপীয় কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করে স্ন্যাপব্যাক নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।












