গাজার এক ফিলিস্তিনি নারীকে মৃত ঘোষণা করে তার লাশ ফেরত দেওয়ার এক বছর পর ইসরায়েলের কারাগারে জীবিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বিসান ফাদল মুহাম্মদ ফায়্যাদের লাশ, পোশাক ও সরকারি পরিচয়পত্র তার পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। পরিবার ধরে নিয়েছিল, তিনি আটক অবস্থাতেই মারা গেছেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে লাশ দাফন করা হয়।
প্যালেস্টাইনিয়ান সেন্টার ফর দ্য মিসিং অ্যান্ড ফোর্সিবলি ডিসঅ্যাপিয়ারড (পিসিএমএফডি) জানিয়েছে, দাফনের কয়েক মাস পর ২০২৫ সালের ২১ মার্চ ফায়্যাদের পরিবারকে জানানো হয় যে তিনি এখনো ইসরায়েলি হেফাজতে আছেন। পরে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষও তার জীবিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে।
আরও
বর্তমানে ফায়্যাদ মেরুদণ্ডে আঘাতজনিত কারণে গুরুতর অসুস্থ এবং আংশিকভাবে পঙ্গুত্বে ভুগছেন। তার পরিবার তার চিকিৎসা ও নিরাপদ মুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
পিসিএমএফডি অভিযোগ করেছে, এই ঘটনা শুধুমাত্র এক ব্যক্তির নয়, বরং ইসরায়েলের কারাগারে হাজারো ফিলিস্তিনি নিখোঁজ বা জোরপূর্বক অদৃশ্য হওয়ার বৃহত্তর ট্র্যাজেডিকে প্রতিফলিত করে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে ফায়্যাদের মুক্তি ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং অন্যান্য নিখোঁজ বা আটক ব্যক্তির তথ্য প্রকাশে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলার পর অন্তত ১১ হাজার ফিলিস্তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশ নারী ও শিশু। অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে, আবার অনেকে কারাগারে আটক রয়েছেন। এ সময় কারাগারে নির্যাতন, মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগও ব্যাপকভাবে বেড়েছে।













