ইসরায়েলি সেনারা মঙ্গলবার প্রবল বোমাবর্ষণের পর ট্যাংক ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে গাজা সিটিতে প্রবেশ করে। ওই দিন অন্তত ৯১ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উপকূলীয় সড়ক দিয়ে পালানোর চেষ্টা করা একদল সাধারণ মানুষের গাড়িতেও হামলা চালানো হয়।
একই দিনে শহরের অন্তত ১৭টি ভবন ধ্বংস করা হয়। এর মধ্যে পূর্ব তুফাহ্ এলাকায় অবস্থিত প্রায় ৭০০ বছরের পুরোনো আল-আয়বাকি মসজিদও রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, ঐতিহাসিক এই মসজিদটি হামলার পর পুরোপুরি গুঁড়িয়ে গেছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ মন্তব্য করেন, “গাজা জ্বলছে।” মানবাধিকার সংস্থা ইউরো-মেড মনিটরের দাবি, ইসরায়েলি সেনারা অন্তত ১৫টি বিস্ফোরকভর্তি রোবট ব্যবহার করছে, যা প্রতিটি সর্বোচ্চ ২০টি করে বাড়িঘর ধ্বংস করতে সক্ষম।
আরও
জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন এ পরিস্থিতিকে সরাসরি গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছে। কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৪ হাজার ৯৬৪ জন নিহত হয়েছেন এবং ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্য ইসরায়েলি নেতৃত্বের ‘বিশেষ অভিপ্রায়’ থেকে স্পষ্ট। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এই যুদ্ধকে নৈতিক, রাজনৈতিক ও আইনি দিক থেকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন।
The footage shows the moment Israeli aircraft bombed and destroyed the minaret of al Aybaki Mosque in the al Tuffah neighbourhood in Gaza.
The mosque was built by the Mamluks in the late 13th century pic.twitter.com/9KRZ85Mm6a
— TRT World (@trtworld) September 16, 2025
ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ডসহ একাধিক দেশ ইসরায়েলি অভিযানের নিন্দা জানিয়ে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মাইকেল ডি হিগিনস এমনকি ইসরায়েলকে জাতিসংঘ থেকে বহিষ্কারের প্রস্তাবও তুলেছেন। কয়েকদিন ধরে টানা হামলার ফলে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি গৃহহীন হয়ে পড়েছেন এবং অনেকে আশঙ্কা করছেন, হয়তো আর কখনো ফেরত যাওয়া সম্ভব হবে না ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া নিজের ঘরে।












