ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে ইসরায়েলের আকাশে নতুন করে তাণ্ডব চালিয়েছে। এবার তারা ইসরায়েলের পারমাণবিক কেন্দ্রের নিকটেই হামলা চালিয়েছে, যা দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তোলে। আয়রন ডোম ও প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের মতো আধুনিক প্রতিরক্ষা সত্ত্বেও হুথিরা সহজেই এগুলোকে ফাঁকি দিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে সক্ষম হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
হুথিরা ইসরায়েলের নেগেভ অঞ্চলে আক্রমণ চালিয়েছে, যেখানে ‘নেগেভ নিউক্লিয়ার রিসার্চ সেন্টার’ অবস্থিত। এই কেন্দ্রটি ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কেন্দ্রে হিসেবে পরিচিত। হুথিরা পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছেই একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। মিডিয়া সূত্রে জানা গেছে, হামলায় চারটি আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি রামোন বিমানবন্দরকে এবং একটি নেগেভ অঞ্চলের সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করেছে। তবে পারমাণবিক কেন্দ্রের ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে হুথিরা কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
হুথি গোষ্ঠীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের আগ্রাসন তাদের মনোবল ভাঙতে পারবে না। তিনি হামলার সময় নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সফল আঘাত হানার দাবি করেছেন। হুথিরা ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে ইসরায়েলে হামলা চালানোর নৈতিক ও মানবিক দায়িত্বের কথা বলছে।
আরও
এর আগে, ১৩ সেপ্টেম্বর হুথিরা ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জাফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। তারা ‘প্যালেস্টাইন ২’ মডেলের হাইপারসোনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে, যা ঘণ্টায় ১৬ ম্যাক গতিতে ছুটতে সক্ষম এবং ৫০০ কেজি বিস্ফোরক বহন করতে পারে। মূলত ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করেই হুথিরা এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র কয়েক মাস ধরে ব্যবহার করছে। তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
হুথিদের সাম্প্রতিক হামলা ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এছাড়াও, পারমাণবিক কেন্দ্রের নিকট এই হামলা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে।












