উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের বিদেশ সফর সবসময়ই বিশ্বজুড়ে কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। এবারও তার চীন সফর আলোচনার শীর্ষে, বিশেষ করে সফরের বাহনকে ঘিরে। পূর্বপুরুষদের রীতি অনুযায়ী কিম এই যাত্রায় বিমান ব্যবহার না করে ব্যক্তিগত বুলেটপ্রুফ ট্রেন “তাইয়াংহো”য় চড়ে চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

“তাইয়াংহো” শব্দের অর্থ সূর্য। এই সবুজ রঙের বিশেষ ট্রেনকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও উন্নত প্রযুক্তির কারণে চলমান দুর্গ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। এতে রয়েছে বিস্ফোরক প্রতিরোধী দেয়াল, ছাদ ও মেঝে, শক্তিশালী আর্মর সিস্টেম, অনবোর্ড মোটর এবং রাডার ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা।
আরও
নিরাপত্তার পাশাপাশি ট্রেনটি বিলাসবহুল সুবিধা সম্পন্ন। এখানে বেডরুম, মিটিং রুম, কনফারেন্স রুমসহ আরাম-আয়েশের সকল ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ট্রেনে কমপক্ষে ২০টি বুলেটপ্রুফ গাড়ি বহনের সুযোগ রয়েছে। তবে ভারী নিরাপত্তা সরঞ্জামের কারণে এর সর্বোচ্চ গড় গতি ঘণ্টায় মাত্র ৫০ কিলোমিটার।
উত্তর কোরিয়ার নেতাদের বিদেশ সফরে ট্রেন ব্যবহার দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্য। দেশটির প্রতিষ্ঠাতা কিম ইলসাং ভিয়েতনাম ও পশ্চিম ইউরোপ সফরে ট্রেন ব্যবহার করেছিলেন। কিম জং উনের বাবা কিম জং ইলও ২০০১ সালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য ১০ দিনের ট্রেন যাত্রা করেছিলেন।
কিম জং উনও এর আগে বহুবার বেইজিং, হ্যানয় ও ভ্লাদিভস্তক সফরে এই বিশেষ ট্রেন ব্যবহার করেছেন। যদিও ২০১৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সিঙ্গাপুর বৈঠকের জন্য বিমান ব্যবহার করেছিলেন, বিদেশ সফরে ট্রেনের পারিবারিক ঐতিহ্য কিম এখনও বজায় রেখেছেন।













