ছুটির আনন্দ এবং দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা মিলে ভ্রমণে গেলে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হতে পারে লাগেজ হারানো। দেশে বা বিদেশে যেখানেই হোক, বিমানবন্দরে ব্যাগ মিস হওয়ার আশঙ্কা সবসময় থাকে। বিশেষ করে বড় ও ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোতে এই ঝুঁকি আরও বেশি।

গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু বিমানবন্দর এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে লাগেজ হারানোকে শুধু দুর্ঘটনা নয়, বরং একটি ‘ক্রমবর্ধমান সমস্যা’ হিসেবে দেখা যায়। ‘এয়ার অ্যাডভাইজার’ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে কিছুতে লাগেজ চুরি ও মিসহ্যান্ডলিং-এর ঘটনা বেশি, আবার কিছু বিমানবন্দর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো থাকায় তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। প্রতিবেদনে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রী সংখ্যা, গুগলে হারানো লাগেজের অনুসন্ধান, বিমানবন্দরের পর্যালোচনা, এবং গেট থেকে লাগেজ ক্লেইম পর্যন্ত হাঁটার সময় বিশ্লেষণ করা হয়েছে।]
আরও


বিশ্বের ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে প্রথমে রয়েছে লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর। বছরে ৮৩.৯ মিলিয়ন যাত্রী ব্যবহার করে, যেখানে প্রতি বছর প্রায় ১৯ হাজার বার হারানো লাগেজের অনুসন্ধান করা হয়। গেট থেকে লাগেজ ক্লেইমে পৌঁছাতে লাগে প্রায় ২০ মিনিট। প্যারিসের চার্লস ডি গল বিমানবন্দর বছরে ৭০.৩ মিলিয়ন যাত্রী ব্যবহার করে এবং ৪,১১০ বার হারানো লাগেজ অনুসন্ধানের ঘটনা ঘটে। তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর, জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট এবং দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও এই তালিকায় রয়েছে।


গবেষণায় বলা হয়েছে, বিমানবন্দরগুলোতে লাগেজের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে মূলভাবে এটি যাত্রীদের সচেতনতার উপর নির্ভর করে। ভ্রমণকারীরা কিছু সহজ ব্যবস্থা অবলম্বন করে নিজের লাগেজকে নিরাপদ রাখতে পারেন। যেমন, প্রতিটি ব্যাগে পরিচয়পত্র যুক্ত করা, ব্যস্ত সময়ে লাগেজের প্রতি দৃষ্টি রাখা এবং ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র রাখার জন্য প্যাডলক বা বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবহার করা।
এই সতর্কতা ও পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করলে হারানো লাগেজের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তাই যাত্রাপথে নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে লাগেজের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।












