বছরের অন্যতম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় কাজিকি ইতোমধ্যেই ভিয়েতনামের উপকূলে আঘাত হেনেছে। সোমবার বিকেল থেকে প্রবল বেগে বাতাস বইতে শুরু করে উপকূলীয় অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১১৮ থেকে ১৩৩ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ভিয়েতনামের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঝড়টির শক্তি কিছুটা কমলেও তা এখনো বিপজ্জনক পর্যায়ে রয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, কাজিকি গত বছরের ভয়াবহ টাইফুন ইয়াগির মতোই শক্তিশালী হতে পারে। ইয়াগিতে প্রায় ৩০০ মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল, যা ছিল গত তিন দশকের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
ঝড় মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে হা তিঙ্ঘ উপকূলীয় প্রদেশ থেকে প্রায় ৬ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া থান হোয়া, কোয়াং ত্রি, হুয়ে ও দা নাংসহ মধ্যাঞ্চলের আরও কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে দুটি বিমানবন্দর ও কিছু ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
আরও
ঝড় আঘাত হানার আগে কাজিকি চীনের হাইনান দ্বীপ অতিক্রম করে দক্ষিণ চীনে প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাত সৃষ্টি করে। বর্তমানে ভিয়েতনামের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে সড়ক, নৌ ও আকাশপথে পরিবহন ব্যবস্থার বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে।
শুধু ভিয়েতনামই নয়, পার্শ্ববর্তী থাইল্যান্ডও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ৫৮টি প্রদেশে আবহাওয়ার সতর্কতা জারি করেছে। বুধবার পর্যন্ত আকস্মিক বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্দামান সাগর ও থাইল্যান্ড উপসাগরের উত্তরাংশে তিন মিটার পর্যন্ত উচ্চতার ঢেউ হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। জরুরি উদ্ধারকর্মী ও দুর্যোগ ত্রাণ বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে থাই সরকার।











