বাস, ট্রেন বা লঞ্চ টার্মিনালের কথা মনে পড়লেই অনেকের চোখে ভিড়, হইচই আর অপরিচ্ছন্নতার ছবি ভেসে ওঠে। তবে বিশ্বের কিছু বিমানবন্দর এই ধারণা পুরোপুরি উল্টে দিয়েছে। সম্প্রতি স্কাইট্র্যাক্স ২০২৫ সালের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন বিমানবন্দরগুলোর তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় পূর্ব এশিয়ার বিমানবন্দরগুলো প্রধানভাবে জায়গা করে নিয়েছে, যেখানে যাত্রীসেবা ও পরিচ্ছন্নতার মান উভয়ই দারুণ।
তালিকার শীর্ষে রয়েছে জাপানের টোকিও হানেদা এয়ারপোর্ট। বছরে সাড়ে আট কোটি যাত্রী এই বিমানবন্দর ব্যবহার করে, তবে পরিচ্ছন্নতার কোনো ছাড় নেই। ২৪ ঘণ্টা কাজ করা প্রশিক্ষিত পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে টার্মিনাল জুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে। বিশেষ রোবট এবং স্বয়ংক্রিয় টয়লেটসহ নানা ব্যবস্থা এটিকে নিখুঁত পরিচ্ছন্নতার প্রতীক হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।
দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিঙ্গাপুর চাঙ্গি এয়ারপোর্ট যেন এক সবুজ বাগানের মতো। এখানে টার্মিনাল ভেতরে জলপ্রপাত ও বনজঙ্গল তৈরি করা হয়েছে। ৫০০-এর বেশি কর্মী শিফটে ভাগ হয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করেন, এবং স্বয়ংক্রিয় ক্লিনিং মেশিন ও ভ্যাকুয়াম সিস্টেম ময়লা ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ ও পরিবেশবান্ধব করেছে। কাতারের দোহা হাম্মাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ইনচিউন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও তিন ও চার নম্বরে স্থান পেয়েছে। দোহার বিমানবন্দর মরুভূমির মাঝে সাফ-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখে এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থার সঙ্গে পানি পুনর্ব্যবহারও করে। সিউল বিমানবন্দর জীবাণুনাশক রোবট এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে যাত্রীদের আরাম নিশ্চিত করে।
আরও
হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং জাপানের অন্যান্য বিমানবন্দর যেমন সেন্ট্রেয়ার নাগোয়া, টোকিও নারিতা ও কানসাইও পরিচ্ছন্নতার জন্য পরিচিত। হংকং বিমানবন্দরে আধুনিক সেন্সর ব্যবস্থা ময়লা শনাক্ত করে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সংকেত দেয়, আর জাপানের বিমানবন্দরগুলো কাঠ ও স্টিলের উপকরণকে ঝকঝকে রাখার জন্য বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে। তাইওয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সুইজারল্যান্ডের জুরিখ এয়ারপোর্টও তালিকায় রয়েছেন, যেখানে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এই বিমানবন্দরগুলো প্রমাণ করে, লাখো মানুষ যাতায়াত করলেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ রাখা সম্ভব। পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে শান্তি ও আরামও নিশ্চিত হয়, যা যাত্রীদের জন্য অভিজ্ঞতাকে আরও সুখকর করে। তবে এতটা পরিচ্ছন্নতা থাকলেও মানুষের দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ—যেমন, খাবার খাওয়ার সময় সচেতন থাকা।












