বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে রাশিয়া জানিয়েছে, তারা আর স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের ওপর থাকা স্বেচ্ছায় আরোপিত নিষেধাজ্ঞা মানবে না। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ইউরোপ ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের এই শ্রেণির ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের বাস্তবতা সামনে রেখে রাশিয়াও তার প্রতিক্রিয়া দেখাতে বাধ্য হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করছে, যা রাশিয়ার পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে দেওয়া সতর্কতা উপেক্ষার শামিল। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার একতরফা আত্মসংযম আর যৌক্তিক নয় বলে মন্তব্য করা হয়।
এই অবস্থানের পেছনে সাম্প্রতিক একটি ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের হুমকির জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পারমাণবিক অস্ত্রবাহী দুটি সাবমেরিনকে কৌশলগত স্থানে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপরই রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত এই অবস্থান পুনর্বিবেচনার ঘোষণা আসে।
আরও
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ‘ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস (আইএনএফ)’ চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায়। সেই সময় রাশিয়া বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্র যদি এ ধরনের অস্ত্র মোতায়েন না করে, তারাও সংযত থাকবে। কিন্তু বাস্তবতা বদলে যাওয়ায় এবার রাশিয়া নিজস্ব কৌশলে পরিবর্তন আনছে।
উল্লেখযোগ্য যে, ১৯৮৭ সালে আইএনএফ চুক্তির মাধ্যমে ৫০০ থেকে ৫,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ ও মোতায়েন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হয়েছিল। তবে বর্তমানে পরস্পরের প্রতি আস্থাহীনতা ও কৌশলগত উত্তেজনার ফলে পুরনো সেই চুক্তির আত্মা ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।













