বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েন ফের নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বুধবার (৯ জুলাই) রাতে এর দাম বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার ডলারে, যা বিটকয়েনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, দিন শেষে বিটকয়েনের লেনদেন হয় ১ লাখ ১১ হাজার ২৫৯ ডলারে, যা আগের দিনের তুলনায় সামান্য বেশি। বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত এর মূল্য বেড়েছে ১৮ শতাংশের বেশি।
বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ এবং প্রাতিষ্ঠানিক চাহিদা বাড়ার ফলে এই ঊর্ধ্বগতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রফেশনাল ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের প্রধান অ্যান্থনি পম্পলিয়ানো বলেন, “বিটকয়েন এমন একটি সম্পদ, যার বাজারমূল্য যত বাড়ছে, বিনিয়োগের ঝুঁকি তত কমছে।” তিনি আরও বলেন, “যেখানে একসময় কেবল নির্দিষ্ট গোষ্ঠীই বিটকয়েনে বিনিয়োগ করত, এখন এর বাজারমূল্য ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় প্রায় সব বড় বিনিয়োগকারী এতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।”
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রিপ্টো-বান্ধব নীতিও বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ট্রাম্প পরিবারের প্রতিষ্ঠান ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে একটি এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড (ETF) চালুর আবেদন করেছে, যাতে বিটকয়েন, ইথার, সোলানা ও রিপলের মতো ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলোতে বিনিয়োগের সুযোগ থাকবে।
আরও
বিটকয়েনের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সিতেও ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার ইথারের দাম এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৭৯৪.৯৫ ডলারে পৌঁছায়। দিন শেষে ইথার ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৪০.৯৯ ডলারে।
এছাড়া, ক্রিপ্টোসম্পর্কিত কোম্পানিগুলোর শেয়ারেও বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে। মাইক্রোস্ট্র্যাটেজির শেয়ার বেড়ে দাঁড়ায় ৪১৫ ডলার ৪১ সেন্ট, যা আগের দিনের তুলনায় ৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। একইভাবে, কয়েনবেস গ্লোবালের শেয়ারের দাম ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭৩.৮৫ ডলারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা চলমান থাকলে ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজার সামনে আরও চাঙ্গা হতে পারে।










