আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের দুই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। মঙ্গলবার (৯ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আদালত জানিয়েছে, নারী ও কিশোরীদের ওপর ধারাবাহিক নিপীড়ন চালানোর অভিযোগে তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা এবং প্রধান বিচারপতি আবদুল হাকিম হাক্কানির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।
২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশটিতে নারীদের প্রতি একের পর এক কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। এর মধ্যে ১২ বছরের বেশি বয়সী মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ করা, অধিকাংশ সরকারি ও বেসরকারি চাকরি থেকে নারীদের সরিয়ে দেওয়া এবং পুরুষ অভিভাবক ছাড়া নারীদের চলাচলে বাধা আরোপ করার মতো পদক্ষেপ রয়েছে। এমনকি জনসমক্ষে নারীদের কথা বলার অধিকারও সংকুচিত করা হয়েছে।

আরও
আইসিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তালেবান সরকার নিয়ম ও বিধিনিষেধ আরোপের নামে নারীদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে এবং তাদের সমাজে বিচ্ছিন্ন করে রাখার প্রয়াস চালাচ্ছে। জাতিসংঘ এসব পদক্ষেপকে ‘লিঙ্গবৈষম্যমূলক আচরণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
তবে আইসিসির এই পদক্ষেপকে তালেবান সরকার কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জানিয়েছে, আইসিসিকে তারা কোনোভাবে স্বীকৃতি দেয় না এবং এই গ্রেফতারি পরোয়ানাকে ‘শত্রুতামূলক কাজ’ ও ‘বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের প্রতি অপমান’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
তালেবান দাবি করেছে, তারা ইসলামী শরিয়া ও আফগান সংস্কৃতির আলোকে নারীদের অধিকার রক্ষা করছে। তবে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে এই ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে না, বরং নারী নিপীড়নের কারণে তালেবান সরকারের প্রতি বৈশ্বিক সমালোচনার মাত্রা বেড়েই চলেছে।












