ইতালিতে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে দুই বছর আট মাস কারাদণ্ড ভোগের পর ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি যুবক ফয়সাল রহমানকে দেশটি থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালত। রায়ে বলা হয়েছে, সাজা শেষে মুক্ত হলেও তিনি এখনো সমাজের জন্য “সরাসরি হুমকি” হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় ইতালিতে তার অবস্থান জননিরাপত্তার ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।
আদালতের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়, ফয়সালের কর্মকাণ্ডকে শুধু অতীতের অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ বলে দেখা যাচ্ছে না; বরং তার মানসিকতা ও কার্যক্রম ভবিষ্যতে সহিংসতা উসকে দেওয়ার সম্ভাবনা রাখে। এ কারণেই তাকে ইতালিতে থাকার কোনো সুযোগ না দিয়ে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, ফয়সাল রহমান ইতালির জেনোয়ার ফিনকান্তিয়েরি শিপইয়ার্ডে কর্মরত ছিলেন। তদন্তকারীরা দাবি করেন, তিনি পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন ‘তেহরিক-ই-তালিবান’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এবং অনলাইনভিত্তিক উগ্রবাদী প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন।
আরও
আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তিনি সহিংস কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে এমন প্রচার চালাতেন। তদন্তে তার কিছু কার্যকলাপকে সম্ভাব্য সহিংস প্রস্তুতির ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরে আদালতে প্রমাণও উপস্থাপন করা হয়েছে।
রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ব্রেসিয়া থেকে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি নাগরিক খলিল উল্লাহ (৩৭)-এর মাধ্যমে ফয়সাল উগ্রবাদে প্রভাবিত হন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। আদালত বলেন, এসব কার্যক্রম শুধু আইন লঙ্ঘন নয়—ইতালির জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি; ফলে সাজা শেষ হলেও ফয়সাল রহমানকে ইতালিতে থাকার অনুমতি দেওয়া যায় না এবং স্থায়ী বহিষ্কারের মাধ্যমে ভবিষ্যতে তার পুনঃপ্রবেশও কার্যত বন্ধ হয়ে গেল।












