ইতালির উত্তরাঞ্চলে এক ব্যক্তিকে মৃত মায়ের পরিচয়ে পেনশন তোলার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে কল্যাণভাতা জালিয়াতি ও লাশ গোপন করার অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি পরচুলা, মেকআপ, গয়না এবং তার মায়ের চুলের স্টাইল পর্যন্ত নকল করে দীর্ঘদিন ধরে ছদ্মবেশে পেনশন তুলতেন।
মান্তুয়া শহরের কাছাকাছি বোরগো ভিরজিলিও এলাকায় বসবাসকারী ওই ব্যক্তি ২০২২ সালে মায়ের মৃত্যুর পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি না জানিয়ে পেনশন গ্রহণ অব্যাহত রাখেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মৃত মায়ের দেহ ঘরের ভেতর লুকিয়ে রেখেছিলেন। ঘটনাটি সামনে আসে এ মাসের শুরুতে, যখন তিনি স্থানীয় কাউন্সিল অফিসে মায়ের পরিচয়পত্র নবায়ন করতে গিয়ে নারীর পোশাকে হাজির হন এবং এক সন্দেহপ্রবণ কর্মীর নজরে পড়েন।
পুলিশ জানায়, কর্মচারীর অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তকারীরা সরকারি পরিচয়পত্রে থাকা মৃত নারীর ছবির সঙ্গে ছদ্মবেশী ছেলের ছবি মিলিয়ে দেখেন। এরপর তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে লন্ড্রি রুম থেকে নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। বোরগো ভিরজিলিওর মেয়র ফ্রান্সেসকো আপোরতি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বৃদ্ধা নারীর মতো ধীরে হাঁটতে চেষ্টা করলেও তার কণ্ঠস্বর ও আচার-আচরণ সন্দেহ বাড়িয়ে দেয়।
আরও
স্থানীয় কর্মীরা জানান, ছদ্মবেশী ব্যক্তির গলা, ত্বকের টেক্সচার এবং হাতের চামড়া কোনোভাবেই ৮৫ বছর বয়সী নারীর সঙ্গে মিলছিল না। এসব অসংগতির কারণেই ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায়। কোরিয়েরে দেলা সেরার প্রতিবেদন অনুসারে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির পেশা ছিল নার্সিং, আর মায়ের পেনশন ও পারিবারিক সম্পত্তি মিলিয়ে তিনি বছরে প্রায় ৫৩ হাজার ইউরো আয় করতেন।
ইতালিতে এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালে ভেরোনায় এক ব্যক্তি পাঁচ বছর ধরে মৃত মায়ের লাশ ঘরে রেখে পেনশন তুলছিলেন। একই বছর পুগলিয়া অঞ্চলেও এক ব্যক্তি বাবার লাশ ১০ বছর ঘরে লুকিয়ে রেখে একই ধরনের জালিয়াতির অভিযোগে আটক হন। বারবার এমন ঘটনায় দেশটিতে পেনশন জালিয়াতি প্রতিরোধে আরও কঠোর নিয়মের দাবি উঠেছে।











