ইতালির রাজধানী রোমের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মানব পাচার চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জানা গেছে, ওই ব্যক্তি বিমানবন্দরে এসেছিলেন তার ভাইকে স্বাগত জানাতে, যিনি অবৈধ পথে বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে প্রবেশ করেছিলেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, পালের্মো ও অ্যাগ্রিজেন্টোর মোবাইল স্কোয়াড এবং জেলা অ্যান্টি-মাফিয়া ডিরেক্টরেটের যৌথ তদন্তে উঠে এসেছে, এই দুই ভাই আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া হয়ে সমুদ্রপথে অভিবাসীদের ইতালিতে পাঠানোর অবৈধ কার্যক্রম চালাতেন।
কয়েকজন অভিবাসী ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, উন্নত জীবনের আশায় তাদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে প্রায় ১১ হাজার ইউরো। যাত্রাপথে লিবিয়ায় তাদের বন্দি করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করত পাচারকারীরা।
আরও
তদন্তে জানা গেছে, এই পাচারচক্রের কার্যক্রম বাংলাদেশ, লিবিয়া ও ইতালির মধ্যে বিস্তৃত। লিবিয়ায় বিশেষ কিছু “নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র” ব্যবহার করে অভিবাসীদের আটকে রেখে ভয়ভীতি ও নির্যাতনের মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হতো।
যদিও ইতালির প্রশাসনিক বাহিনীর সম্মিলিত অভিযানে এই চক্রের একটি বড় অংশ চিহ্নিত ও ধরা পড়েছে, তবু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—দারিদ্র্য, কর্মসংস্থানের সংকট ও নিরাপদ অভিবাসনের সীমিত সুযোগ কেন মানুষকে এখনো এমন বিপজ্জনক পথ বেছে নিতে বাধ্য করছে?











