বিশ্বরাজনীতি আর অর্থনৈতিক অস্থিরতার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই দেশের অর্থনীতিতে আশার আলো জাগাচ্ছেন প্রবাসীরা। বৈশ্বিক নানা সংকটের মাঝেও সদ্য সমাপ্ত মার্চ মাসে দেশে এসেছে ইতিহাসের রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে প্রবাসীরা মোট ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন, যা একক মাস হিসেবে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। রেমিট্যান্সের এই জোয়ারে বরাবরের মতোই শীর্ষে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব। দেশটি থেকে এক মাসেই এসেছে ৭০ কোটি ৪৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার।
সৌদি আরবের পাশাপাশি যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে থাকা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ থেকেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে ৫৮ কোটি ৬২ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এছাড়া শীর্ষ দশে থাকা কাতার, কুয়েত এবং ওমানের মতো দেশগুলো থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়েছেন রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য থেকে ৫২ কোটি ৬৫ লাখ ৭০ হাজার এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে ৩৬ কোটি ৫৪ লাখ ৪০ হাজার ডলার। মালয়েশিয়া, ইতালি এবং সিঙ্গাপুর থেকেও রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল উর্ধ্বমুখী।
ব্যাংকভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, রেমিট্যান্সের বড় অংশই এসেছে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে, যার পরিমাণ ২৬৪ কোটি ৫০ হাজার ডলার। রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬৪ কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার ডলার। এছাড়া বিশেষায়িত ও বিদেশি ব্যাংকগুলোও এই রেকর্ড আয়ে ভূমিকা রেখেছে। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ পর্যন্ত মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে যেকোনো অর্থবছরের তুলনায় সর্বোচ্চ। গত বছরের শেষ দিক থেকেই প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।










