অস্ট্রেলিয়ার দস্তানা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আনসেল-এর মালয়েশিয়ান সরবরাহকারী মেডিসেরাম-এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশি শ্রমিকদের শোষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ফেডারেল ট্রেজারিতে দায়ের করা এক অভিযোগে জানানো হয়েছে, অন্তত ২২০ জন বাংলাদেশি শ্রমিক মজুরি চুরি, জোরপূর্বক শ্রম, ঋণের ফাঁদ ও নির্বাসনের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন।
অভিযোগটি দায়ের করেছেন আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকারকর্মী অ্যান্ডি হল। তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে নিয়োগ পাওয়ার সময় প্রতিটি শ্রমিককে গড়ে প্রায় পাঁচ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার ফি দিতে হয়েছে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, শ্রমিকদের বেতন ও ওভারটাইম ভাতা দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়েছে, অনেকের ভিসা নবায়ন করা হয়নি। শুধু অভিযোগ তোলার কারণেই অন্তত ৩৩ জনকে বরখাস্ত করে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এক শ্রমিক জানান, তাদের প্রতিটি কক্ষে ছয়জন করে গাদাগাদি করে থাকতে হতো। এদিকে অস্ট্রেলিয়ার এবিসি নিউজ এক প্রতিবেদনে বলেছে, আনসেল নিজেই স্বীকার করেছে যে মেডিসেরামে বেশ কিছু শ্রম মান-লঙ্ঘন শনাক্ত হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আরুমুগাম সুপ্পিয়াহ অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন, এটি শ্রমিকদের ভয় দেখানোর কৌশল এবং তাদের কাছে অভিযোগ খণ্ডনের জন্য প্রমাণপত্র রয়েছে।
আরও
মানবাধিকার আইনকেন্দ্রের সহযোগী পরিচালক ফ্রেয়া দিনশ মনে করেন, আধুনিক দাসত্ব প্রতিরোধে অস্ট্রেলীয় কোম্পানিগুলোর আইনি বাধ্যবাধকতা আরও জোরদার হওয়া উচিত। তার মতে, সরবরাহ শৃঙ্খলে শ্রমিক শোষণ বন্ধে কোম্পানিগুলোকে কঠোরভাবে আইন মেনে চলতে বাধ্য করতে হবে।
এর আগে ২০১৭ সালেও আনসেলের বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কা ও মালয়েশিয়ায় শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছিল। নতুন করে একই ধরনের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটি আবারও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছে। শ্রমিক অধিকারকর্মীদের মতে, অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে এটি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বড় করপোরেট আধুনিক দাসত্বের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হবে।












