চীনের তৈরি সর্বাধুনিক মাল্টিরোল অ্যাটাক হেলিকপ্টার ‘জেট-১০’ আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বহরে যুক্ত হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, পাকিস্তান আর্মি এভিয়েশন কর্পস হেলিকপ্টারগুলো মাঠপর্যায়ে ব্যবহার শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংযোজন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে।
পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিতে জেট-১০ হেলিকপ্টার উড্ডয়নের একটি ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয়, যেখানে হেলিকপ্টারটির সিরিয়াল নম্বর ও ‘Pakistan Army’ লেখা স্পষ্ট দেখা যায়। ২ আগস্ট মুলতান গ্যারিসনে পাকিস্তান সেনাপ্রধান আসিম মুনির আনুষ্ঠানিকভাবে এই হেলিকপ্টার উদ্বোধন করেন। জানা গেছে, পাকিস্তান প্রায় ৪০টি জেট-১০ সংগ্রহ করেছে এবং ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বছরের প্রজাতন্ত্র দিবস কুচকাওয়াজে এসব হেলিকপ্টার প্রদর্শন করা হবে।
জেট-১০ হেলিকপ্টার প্রযুক্তিগত দিক থেকে অত্যন্ত উন্নত। এটি ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে এবং একটানা প্রায় ১,১২০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম। হেলিকপ্টারটিতে রয়েছে আধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম, AESA রাডার, ইনফ্রারেড কাউন্টার মেজার, লেজার সতর্কতা প্রযুক্তি ও উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এটি ছয়টি আর্মস স্টেশন থেকে ২৫ কিলোমিটার পাল্লার মিসাইল ও ২৩ মিমি কামান নিক্ষেপ করতে পারে।
আরও
এই সংযোজনের মাধ্যমে পাকিস্তান মার্কিন নির্মিত পুরোনো এএইচ-১ এফ কোবরা ও রুশ এমআই-৩৫ হেলিকপ্টারের যুগ থেকে সরে এসে অত্যাধুনিক যুদ্ধ সক্ষমতার দিকে অগ্রসর হয়েছে। পাকিস্তান দাবি করেছে, তাদের জেট-১০ হেলিকপ্টার চীনা সংস্করণ থেকেও উন্নত, বিশেষত ইঞ্জিন ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির দিক থেকে।
পাকিস্তানের এই সামরিক আধুনিকায়নের প্রেক্ষিতে ভারতও তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে। সম্প্রতি ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রথম দফায় তিনটি এএইচ-৬৪ই অ্যাপাচি গার্ডিয়ান হেলিকপ্টার গ্রহণ করেছে, যেগুলো পশ্চিম সীমান্তে মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।












