মালদ্বীপে একটি মালবাহী নৌযানডুবির ঘটনায় নিখোঁজ প্রবাসী বাংলাদেশি রহিমের (৪৭) সন্ধান এখনও মিলেনি। দুর্ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তার অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় নিহত এক মালদ্বীভিয়ান নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও রহিমকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে মালদ্বীপ ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স (এমএনডিএফ)।
১৮ জানুয়ারি সকাল ৭টা ২৭ মিনিটে রাজধানী মালের অদূরে তাজ এক্সোটিকা রিসোর্টের কাছে ‘বালমা ছয়’ নামের একটি পণ্যবাহী নৌযান হঠাৎ ডুবে যায়। নৌকায় থাকা রহিম জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার সুখ নগরী গ্রামের মৃত গোলাপ খানের ছেলে। পরিবার জানায়, ২০০৮ সাল থেকে জীবিকার তাগিদে মালদ্বীপে কাজ করছিলেন তিনি। তার মেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমাদের বাবা নিখোঁজ… বাড়িতে চলছে শুধু কান্না আর দুশ্চিন্তা।”
প্রবাসে থাকা সহকর্মীরা জানান, রহিম সম্প্রতি মালবাহী নৌযানে কর্মরত ছিলেন এবং বৈধ নথিপত্র নবায়নের জন্য হাইকমিশনে পাসপোর্ট আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন। সহকর্মী জয়নাল বলেন, “রহিম পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন। শেষবার তিনি জানালেন, সব কাগজপত্র ঠিকঠাক চলছে। কে জানত, এর মধ্যেই এমন বিপদ চলে আসবে।”
আরও
গত বছরও মালদ্বীপের সমুদ্রপথে একাধিক নৌদুর্ঘটনা ঘটে, যার অনেকগুলোতেই নিখোঁজ প্রবাসীদের আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। এতে বিভিন্ন দেশের পরিবারগুলো দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও শোকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। রহিমের পরিবারও সেই একই অপেক্ষার ভার সামলাচ্ছে।
এমএনডিএফ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলে সমুদ্রস্রোত প্রবল থাকায় অনুসন্ধান কার্যক্রম চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। তবুও নৌ ও ডুবুরি দল সমন্বিত উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। পরিবার, সহকর্মী ও প্রবাসীরা এখনো আশায় বুক বেঁধে রয়েছেন—রহিম জীবিত অবস্থায় ফিরে আসবেন।











