মালদ্বীপে বসবাসরত ও কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার, মর্যাদা ও সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে আয়োজিত এ বৈঠকে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম এবং মালদ্বীপের ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেল সিপি (অব.) আহমেদ ফাসীহ অংশ নেন। শনিবার বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বৈঠকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুরক্ষা, অভিবাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেল তাদের সাম্প্রতিক ডিজিটাল উদ্যোগ সম্পর্কে হাইকমিশনারকে অবহিত করেন। তিনি জানান, ইতোমধ্যে ই-ভিসা সিস্টেম ও ইমিগ্রেশন মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রবাসীরা অনলাইনে ভিসার অবস্থা যাচাই করতে পারবেন। ভবিষ্যতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভিসা ইস্যুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে বৈধ ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-ভিসায় রূপান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নতুন আবেদনকারীদের জন্য এই প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। এ উদ্যোগ অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও সহজ করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
আরও
হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম বৈঠকে প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের নানা সমস্যার বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অনেক শ্রমিক বৈধভাবে মালদ্বীপে প্রবেশ করলেও প্রতিশ্রুত কর্মসংস্থান না পেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ছেন। তথাকথিত ‘ফ্রি-ভিসা’ প্রথা বন্ধ, শ্রমিকদের প্রতারণা ও শোষণ রোধ, ন্যায্য বেতন কাঠামো, নিরাপদ ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
জবাবে ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেল আশ্বাস দেন, যাচাই-বাছাই শেষে প্রতারণায় জড়িত কোম্পানি ও নিয়োগকর্তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের মালদ্বীপের লেবার রিলেশন অথরিটিতে অভিযোগ করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি গ্রেপ্তার বা বহিষ্কারের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য বাংলাদেশ হাইকমিশনকে জানানো হবে বলেও বৈঠকে জানানো হয়।
আরও দেখুনঃ













