মালয়েশিয়ায় সদ্য কার্যকর হওয়া আবর্জনাবিরোধী আইনের আওতায় প্রথমবারের মতো আদালতে অভিযুক্ত দুই বিদেশি নাগরিকের মধ্যে একজন বাংলাদেশি রয়েছেন। অপর অভিযুক্ত একজন ইন্দোনেশীয় নারী। নববর্ষের প্রথম দিন জোহর বাহরুর শহর এলাকায় পৃথক দুটি ঘটনায় তাদের আটক করা হয় এবং বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে জোহর বাহরু সেশন কোর্টে হাজির করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, খণ্ডকালীন শ্রমিক আনিতা লুকমান (৪৯) স্টুলাং লাউতের জালান ইব্রাহিম সুলতান এলাকায় রাত ১২টা ৪১ মিনিটে ফুটপাথে সিগারেটের টুকরা ও একটি পানীয়ের বোতল ফেলে দেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করেন। নির্ধারিত ডাস্টবিন ব্যবহার না করায় তার বিরুদ্ধে ‘সলিড ওয়েস্ট অ্যান্ড পাবলিক ক্লিনজিং ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট ২০০৭’-এর ৭৭এ(১) ধারায় মামলা করা হয়। আইনজীবী ছাড়া আদালতে উপস্থিত হয়ে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং পারিবারিক দায়ের কথা তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি সিতি আদোরা রাহতিমান আদালতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আবেদন জানান। তার বক্তব্যে, এ ধরনের সাজা অভিযুক্তসহ জনসাধারণকে সতর্ক করবে এবং জনপরিসরে পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় আইন মানার প্রবণতা বাড়াবে। বিচারক নর আজিয়াতি জাফার আনিতাকে ৫০০ রিঙ্গিত জরিমানা করেন; জরিমানা অনাদায়ে ১৫ দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। পাশাপাশি তাকে ছয় মাসের মধ্যে ছয় ঘণ্টা কমিউনিটি সার্ভিস সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; নির্দেশনা না মানলে অতিরিক্ত জরিমানার বিধানও উল্লেখ করা হয়।
আরও
অন্যদিকে একই এলাকায় রাত ১টা ২৭ মিনিটে ময়লা ফেলার অভিযোগে অভিযুক্ত কারখানা শ্রমিক সুলতান এমডি (২৮) অভিযোগটি পুরোপুরি বুঝতে না পারার কথা জানিয়ে বাংলা ভাষার দোভাষী চান। আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন হিসেবে ২৮ জানুয়ারি নির্ধারণ করেন।
উল্লেখ্য, ‘সলিড ওয়েস্ট অ্যান্ড পাবলিক ক্লিনজিং ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট ২০০৭’-এর সংশোধিত বিধান চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী কার্যকর হয়েছে। আইনে জনসমক্ষে বর্জ্য ফেলার জন্য সর্বোচ্চ ২ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা এবং প্রয়োজনে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কমিউনিটি সার্ভিসের বিধান রাখা হয়েছে।












