মালয়েশিয়ায় বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া যানবাহন চালানো এবং ইউএনএইচসিআর কার্ডকে ‘লাইসেন্স’ হিসেবে ব্যবহার করে সড়কে চলাচলের অভিযোগে ১০ জন বাংলাদেশিসহ মোট ৫৮ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির সড়ক পরিবহন বিভাগ (জেপিজে)। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) কুয়ালালামপুরের সেতিয়াওয়াংসা, ওয়াংসা মাজু, সেতাপাক ও গোম্বাক এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
কুয়ালালামপুর জেপিজে’র পরিচালক হামিদি আদম জানান, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলা অভিযানে মোট ৩২৩টি যানবাহন পরীক্ষা করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে ২৮৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৫৮টি যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত যানবাহনের মধ্যে ৫২টি মোটরসাইকেল, ৩টি আবর্জনা ফেলার লরিসহ মোট ৫টি পণ্যবাহী যান এবং একটি প্রাইভেটকার রয়েছে বলে জানানো হয়।
আটক ৫৮ জন বিদেশির মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশি, ১৫ জন পাকিস্তানি, ১৩ জন ভারতীয়, ১১ জন ইন্দোনেশীয়, ৮ জন মিয়ানমারের এবং ১ জন ফিলিস্তিনি নাগরিক রয়েছেন। জেপিজে জানায়, অভিযানে লাইসেন্স না থাকার অপরাধ শনাক্ত হয়েছে ১১১টি ক্ষেত্রে। পাশাপাশি রোড ট্যাক্স না থাকা ৭৫টি, বিমা (ইন্স্যুরেন্স) না থাকা ৬১টি, যানবাহনের অপব্যবহার ১৪টি এবং ভোকেশনাল লাইসেন্স না থাকার ১০টি ঘটনাও চিহ্নিত করা হয়েছে।
আরও
অভিযান চলাকালীন ৩৩ বছর বয়সী রহিম নামের এক রোহিঙ্গা শরণার্থী দাবি করেন, জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে তিনি এই কাজে যুক্ত হয়েছেন। তিনি জানান, দুই বছর আগে এক স্থানীয় ব্যক্তির কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ রিঙ্গিতে একটি পুরনো হোন্ডা থ্রি-হুইলার কিনে ভাঙারি সংগ্রহের কাজ করতেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আগের কর্মস্থলে প্রতারিত হওয়ার পর বিকল্প উপায় না থাকায় তিনি এ পথে নামেন।
জেপিজে’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ৫৮৬টি যানবাহন জব্দ করা হলেও গত বছর তা কমে ৩৭৬টিতে নেমেছে। তবে অপরাধের হার কিছুটা কমলেও তদারকিতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন পরিচালক হামিদি আদম। রাজধানীতে অবৈধভাবে যান চালানো বিদেশি চালকদের তৎপরতা রোধে নিয়মিত বিরতিতে এমন কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।











