মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের ব্যস্ততম পর্যটন ও বিনোদন এলাকা বুকিত বিনতাংয়ে অনলাইন জুয়া সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে পরিচালিত অভিযানে ১২ জন বাংলাদেশিসহ মোট ১৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান জানান, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে অনলাইন জুয়া পরিচালনা করছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় এক মাস পর্যবেক্ষণের পর সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় বুকিত বিনতাংয়ের জালান অলর, জালান চাংকাট এবং জালান বেদারা এলাকায় একযোগে অভিযান শুরু করা হয়। এতে পুত্রাজায়া সদর দফতরের বিশেষ ট্যাকটিক্যাল টিমের ২৫ জন কর্মকর্তা অংশ নেন।
অভিযান চলাকালীন মোট ৩১ জন বিদেশি এবং ২ জন স্থানীয় নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে ১৯ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশি ১২ জন, মিয়ানমারের ৪ জন এবং ইন্দোনেশিয়ার ৩ জন নাগরিক রয়েছেন। তাদের বয়স ২১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বৈধ ভ্রমণ নথি (পাসপোর্ট) না থাকা এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থানের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ জন স্থানীয় নাগরিককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
আরও
কর্তৃপক্ষ জানায়, সিন্ডিকেটটি মূলত অভিবাসী শ্রমিকদের আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিত। তাদেরকে ৫০ থেকে ৫০০ রিঙ্গিত বিনিয়োগে স্বল্প সময়ে বড় অংকের লাভের আশ্বাস দেওয়া হতো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তারা ভাড়া করা বাসা ও ছোট দোকানের আড়ালে কার্যক্রম চালাত। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ক্যাপ্টেন’ নামে পাহারাদার নিয়োগ এবং অপরিচিত ব্যক্তিকে ঠেকাতে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহারের তথ্যও পাওয়া গেছে।
অভিযান থেকে জুয়া পরিচালনায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৫৯টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ট্যাবলেট, ৩টি কম্পিউটার মনিটর, ৩টি সিসিটিভি ডিকোডার এবং একটি ওয়াইফাই ক্যামেরা। মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান বলেন, অভিবাসন আইনসহ সংশ্লিষ্ট আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে সরকারের অবস্থান কঠোর থাকবে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে জনসাধারণকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করারও আহ্বান জানান তিনি।








