মালয়েশিয়ায় সাম্প্রতিক একাধিক কারখানা অভিযানে ভুয়া নথি উদ্ধারের প্রেক্ষাপটে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিদেশি শ্রমিকদের বৈধ কাগজপত্র থাকা নিশ্চিত করার সম্পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা ও মালিকপক্ষের ওপরই বর্তায়। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ১৪ জানুয়ারি একটি ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন কারখানায় পরিচালিত যৌথ অভিযানে এ ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ে। তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে জানুয়ারির শেষ দিকে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল জানান, অভিযানে আটক শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ১৯৯০ সালের জাতীয় নিবন্ধন বিধিমালার আওতায় ভুয়া পরিচয়পত্র রাখা এবং অন্যের পরিচয়পত্র ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি অভিবাসন আইন ও কর্মসংস্থান আইন অনুযায়ীও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে—কিছু শ্রমিক ভুয়া কাগজপত্র সংগ্রহে জনপ্রতি প্রায় ৩০০ রিঙ্গিত পরিশোধ করেছেন।
আরও
মন্ত্রী আরও বলেন, তদন্তের মূল লক্ষ্য শুধু শ্রমিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং পুরো ব্যবস্থাপনাগত চক্রকে আইনের আওতায় আনা। এর মধ্যে দালাল, নিয়োগকারী এজেন্ট, মালিকপক্ষ, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং ভুয়া নথির উৎস—সবই তদন্তের আওতায় রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি ব্যবস্থা চালুর প্রেক্ষাপটে নথি জালিয়াতি একটি গুরুতর অপরাধ, যা সরকার কোনোভাবেই বরদাশত করবে না।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে এখনও বিদেশি শ্রমিকের প্রয়োজন রয়েছে; তবে তাদের প্রবেশ ও কর্মসংস্থান অবশ্যই আইন ও বিধি মেনে হতে হবে। সরকারের দায়িত্ব শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে যারা শ্রমিকদের শোষণ করে—সে মালিক বা এজেন্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।








