মালয়েশিয়ায় জাল লেটার অব অ্যাওয়ার্ড (এলওএ) দাখিলের অভিযোগে এক বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের পরিচালককে ৫০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বারনামা জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) কুয়ালালামপুর সেশন কোর্টের বিচারক সুজানা হুসিন এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ জাসিম (৪৩)। তিনি নিসা রিসোর্সেস এসডিএন বিএইচডি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং পাঁচ সন্তানের জনক। আদালতে উপস্থাপিত অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি লেবার রিক্যালিব্রেশন প্রোগ্রাম (আরটিকে ২.০)-এর আওতায় আবেদন করার সময় মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের পুত্রজায়া এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনে একটি ভুয়া এলওএ দাখিল করেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়, দাখিলকৃত নথিতে কুয়ালালামপুরের জালান তুন রাজাক এলাকায় একটি কন্ডোমিনিয়ামের সংস্কার প্রকল্পের উল্লেখ ছিল, যা বাস্তবে অস্তিত্বহীন। এর আগে, ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ইমিগ্রেশন বিভাগ ই-মেইলের মাধ্যমে নিসা রিসোর্সেসকে ১৪ জন নির্মাণশ্রমিকের আরটিকে ২.০ আবেদনের জন্য সাক্ষাতের তারিখ নির্ধারণ করে। নির্ধারিত দিনে আসামির স্ত্রী ও সহ-পরিচালক সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জমা দেন এবং ‘অরিয়ন ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন’-এর নামে এলওএটি প্রকৃত নথি হিসেবে উপস্থাপন করেন।
আরও
পরবর্তীতে অরিয়ন কন্ডোমিনিয়াম ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে যে ওই এলওএ সম্পূর্ণ জাল। তারা জানায়, উল্লিখিত প্রকল্পটি কাল্পনিক, ব্যবহৃত লেটারহেড তাদের প্রতিষ্ঠানের নয় এবং নিসা রিসোর্সেসের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই। এর ভিত্তিতে মোহাম্মদ জাসিমের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার দণ্ডবিধির ৪৭১ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
শুনানিকালে আসামিপক্ষ শাস্তি লাঘবের আবেদন জানালেও রাষ্ট্রপক্ষ জাল নথি ব্যবহারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতি আস্থাভঙ্গের বিষয়টি তুলে ধরে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। সব দিক বিবেচনা করে আদালত মোহাম্মদ জাসিমকে ৫০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা এবং অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।












