মালয়েশিয়ায় বৈধ ভিসায় অবস্থানরত সব বিদেশির জন্য কঠোর ও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে দেশটির সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসিউন ইসমাইল জানিয়েছেন, কোনো ব্যক্তি যদি আইন ভঙ্গ করেন—তিনি যে ধরনের ভিসা বা পাসের অধিকারীই হোন না কেন—তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা অবস্থানের জন্য ব্যতিক্রমের সুযোগ নেই বলে তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থী ভিসা, বিনিয়োগকারী ভিসা, দীর্ঘমেয়াদি ভ্রমণ পাস কিংবা ‘মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোম (MM2H)’ কর্মসূচির অনুমতি—কোনোটিই কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে থাকার অধিকার দেয় না। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকারের অবস্থান আপসহীন থাকবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রয়োজনে ভিসা বা পাস বাতিল, কালো তালিকাভুক্তি এবং দেশ থেকে বহিষ্কারের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তির সামাজিক অবস্থান, পরিচিতি বা জাতীয়তা কোনোভাবেই বিবেচনায় আসবে না বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আরও
এ প্রসঙ্গে রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশের পেশাদারিত্বের ওপর আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাহিনীটি নিরপেক্ষভাবে অভিযোগ তদন্ত করে এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করে। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশিদের সম্পৃক্ত কিছু ঘটনা নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, সেগুলোকেও গুজব বা অতিরঞ্জন নয়—আইনের আলোকে বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
বিদেশি শ্রমবাজার প্রসঙ্গে তিনি জানান, মালয়েশিয়া নির্দিষ্ট ১৫টি দেশ থেকে নিম্নদক্ষ শ্রমিক নিয়োগের অনুমতি দিলেও চীন সেই তালিকায় নেই। তবে গত বছরের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নিবন্ধিত চীনা প্রবাসীর সংখ্যা ছিল ৩০ হাজার ৬৭৯ জন, যারা মূলত নির্মাণ, উৎপাদন, তথ্যপ্রযুক্তি ও সেবা খাতে বিশেষায়িত দক্ষতাভিত্তিক কাজে নিয়োজিত। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিনিয়োগ ও শিক্ষা ক্ষেত্রে দেশটি উন্মুক্ত থাকলেও জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।











