মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে জাল পাসপোর্ট প্রস্তুত ও অবৈধ স্বাস্থ্য পরীক্ষা (ফোমেমা) করানোর সঙ্গে জড়িত একটি আন্তর্জাতিক চক্রের মূল হোতাসহ পাঁচ বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। টানা দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির পর বিশেষ অভিযানে চক্রটির কার্যক্রম উদ্ঘাটিত হয় বলে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, মঙ্গলবার জালান চেমুর ও জালান ইপোহ এলাকার দুটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে রায়হান নামে এক বাংলাদেশিকে ‘চক্রের প্রধান সমন্বয়কারী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং তাকে আরও চার সহযোগীসহ আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বয়স ২৩ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, আটক চারজনের ভিসার মেয়াদ দীর্ঘদিন আগেই উত্তীর্ণ হয়েছে এবং দুইজন বৈধ কোনো ভ্রমণ নথিও প্রদর্শন করতে পারেননি।
অভিযানস্থল থেকে বিভিন্ন দেশের তৈরি বিপুল পরিমাণ জাল পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, নেপাল ও ইন্দোনেশিয়ার পাসপোর্ট। এছাড়া ফোমেমা পরীক্ষার ফরম, পাসপোর্টের রঙিন কপি, অবৈধ কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে ইমিগ্রেশন টিম। কর্তৃপক্ষ বলছে, বিলাসবহুল আবাসনের আড়ালে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ক্লাং ভ্যালি অঞ্চলের ‘আনফিট’ বা অসুস্থ শ্রমিকদের টার্গেট করে জাল নথি সরবরাহ করে আসছিল।
আরও
চক্রটির পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। গ্রাহকের আসল পাসপোর্ট নম্বর ও তথ্য ব্যবহার করে নতুন জাল পাসপোর্ট তৈরি করা হতো, তবে ছবির স্থানে বসানো হতো সিন্ডিকেট সদস্যের ছবিই। পরবর্তীতে সেই সদস্যরা ক্লিনিকে উপস্থিত হয়ে গ্রাহকের নামে স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করতেন। প্রতিটি জাল পাসপোর্ট ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য চক্রটি ১০০ থেকে ২৫০ রিঙ্গিত পর্যন্ত অর্থ নিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ছয় মাস ধরে চক্রটি সক্রিয় ছিল।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ বলছে, দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জালিয়াতি, অনিয়ম বা অবৈধ অভিবাসন-সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। আটক বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।












