মালয়েশিয়ার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মুজ্জাফফার শাহ বিন আব্দ রহমান এবং তাঁর স্ত্রী নোরলিজা মোহদ নোর একজন বাংলাদেশি শ্রমিকের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা ও মানবিক টানে বাংলাদেশে এসেছেন। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে তারা গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী ইউনিয়নের একটি ছোট গ্রামে পৌঁছান। সোলাইমান নামে ওই শ্রমিকের পরিবারে নতুন সন্তানের জন্ম উপলক্ষে তাঁর আমন্ত্রণেই মালয়েশীয় দম্পতির এই সফর।
২০০৭ সালে জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়া যান গাজীপুরের পিরুজালীর পিয়ার আলির ছেলে সোলাইমান (৩৬)। দীর্ঘ সংগ্রামের পর তিনি চাকরি পান মুজ্জাফফার শাহের প্রতিষ্ঠানে। সততা, কঠোর পরিশ্রম এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে মালিকের আস্থা অর্জন করেন। কর্মক্ষেত্রের সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে বদলে যায় পারিবারিক বন্ধনে।
গ্রামে পৌঁছে মালয়েশীয় দম্পতিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়। সোলাইমানের বাড়িতে আয়োজন করা হয় আপ্যায়ন অনুষ্ঠানের, যেখানে অংশ নেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষার্থী ও এলাকার সাধারণ মানুষ। সোলাইমান জানান, মালিকের এমন ভালোবাসা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
আরও
মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী মুজ্জাফফার শাহ বলেন, সোলাইমান শুধুই কর্মচারী নন, তিনি পরিবারের একজন সদস্যের মতো। তাঁর সদ্যোজাত সন্তানকে দেখতে পারায় এই সফরকে তিনি বিশেষ সৌভাগ্য বলে মনে করেন। গ্রামের মানুষের আন্তরিকতায় তিনি মুগ্ধ হয়ে স্থানীয় মসজিদ উন্নয়নে ১১ লাখ টাকা অনুদানও প্রদান করেন।
এ ঘটনাকে স্থানীয়রা সততা, বিশ্বাস ও মানবিক সম্পর্কের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে এমন আন্তরিকতা থাকলে কর্মফল আরও উন্নত হয়, আর সেই সঙ্গে দেশ-বিদেশের কর্মসম্পর্কও ইতিবাচকভাবে শক্তিশালী হয়।












