মালয়েশিয়ায় প্রেম ও বিবাহের এক বাস্তব কাহিনি আলোচনায় এসেছে, যা সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। তিন বছর আগে মালয়েশিয়ান তরুণী নূর সালমি সুহানা নরবি (৩৮) ও বাংলাদেশি নাগরিক মোহাম্মদ রিয়াজুল হোসেনের (৩৭) বিয়ের পর তাদের পারিবারিক জীবনে নানা চ্যালেঞ্জ দেখা দিলেও, আজ তারা সুখী দাম্পত্যের উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমে বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাদের এই অনন্য প্রেমকাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
নূর সালমি জানান, তিনি কখনোই ভাবেননি যে বিদেশি নাগরিক, বিশেষ করে বাংলাদেশি একজনকে বিয়ে করবেন। একসময় তার নিজের মধ্যেও বাংলাদেশিদের নিয়ে নেতিবাচক ধারণা ছিল। তবে ২০২১ সালে সেলাঙ্গর রাজ্যের পেতালিং জেলার একটি দোকানে ল্যাপটপ কিনতে গিয়ে বিক্রেতা রিয়াজুলের সঙ্গে প্রথম পরিচয় তার জীবন বদলে দেয়। ক্রেতা-বিক্রেতার সম্পর্ক দ্রুতই প্রেমে রূপ নেয় এবং ২০২২ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
বিয়ের পর প্রথম ছয় মাস নূর সালমির মা এ সম্পর্ক মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে নূর সালমির বাবা পরিস্থিতি সামলে নেন এবং পরিবারকে রাজি করান। নূর সালমি বলেন, অতীতে অনেক মালয়েশিয়ানই বাংলাদেশিদের নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করতেন, আমিও তার ব্যতিক্রম ছিলাম না। কিন্তু আমার স্বামী তার আচরণ, দায়িত্ববোধ ও আন্তরিকতার মাধ্যমে সেই ধারণা বদলে দিয়েছেন।
আরও
সাংস্কৃতিক ভিন্নতা, খাদ্যাভ্যাস এবং সমাজের নানা কটাক্ষ—সব মিলিয়ে শুরুতে দম্পতিকে কম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়নি। নূর সালমি জানান, স্বামী শুরুতে কর্তৃত্বপরায়ণ ছিলেন এবং শুধুমাত্র বাংলাদেশি খাবার চাইতেন। তবে তিনি ধীরে ধীরে স্বামীকে মালয় খাবারের সঙ্গে পরিচিত করান এবং রিয়াজুল এখন সেসব খাবার যথেষ্ট উপভোগ করেন। সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে উভয়েই পরস্পরের সংস্কৃতি ও অভ্যাসের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন।
সমাজের কিছু মানুষের নেতিবাচক মন্তব্য একসময় তাকে কষ্ট দিত বলে স্বীকার করেন নূর সালমি। তিনি নিজেকে প্রশ্ন করতেন—একজন বিদেশিকে বিয়ে করা কি সত্যিই খারাপ? তবে এখন তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, আল্লাহ তাকে সঠিক সঙ্গীই দিয়েছেন এবং যারা দূর থেকে বিচার করেন, তারা প্রকৃত চিত্র বোঝেন না। বর্তমানে এক সন্তানের অভিভাবক এই দম্পতি সুখে-শান্তিতে সংসার করছেন এবং নিজেদের অভিজ্ঞতায় প্রমাণ করছেন যে ভালোবাসা ও বোঝাপড়াই দাম্পত্যের মূল শক্তি।













