মালয়েশিয়া মালাক্কা প্রণালিতে সৃষ্ট বিরল উষ্ণমণ্ডলীয় ঝড় দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার তিন দেশে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পরিস্থিতি তৈরি করেছে। গত এক সপ্তাহের এই দুর্যোগে ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২১ জনে। শুক্রবার প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। একই সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড়–সম্পর্কিত দুর্যোগে আরও ৪৬ জনের প্রাণহানি ঘটে।
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা (BNPB) প্রধান সুহারিয়ান্তো জানান, সেখানকার বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত ১৭৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে এবং অন্তত ৭৯ থেকে ৮০ জন এখনো নিখোঁজ। হাজারো বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন। অনেক দুর্গত এলাকায় এখনো উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছতে পারেননি, ফলে নিখোঁজ ও মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলেও দুর্যোগের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। আটটি প্রদেশে ১৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৩৫ লাখেরও বেশি মানুষ। বন্যাকবলিত শহর হাত ইয়াই–এর বহু এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ নেই; রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় অনেক পরিবার নিজেদের ‘দ্বীপে আটকা পড়া’ অবস্থায় পেয়েছেন। জরুরি সেবা ও ত্রাণ কার্যক্রম সেখানে অব্যাহত রয়েছে।
আরও
এদিকে, মালয়েশিয়ায় বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আঘাত হানে ক্রান্তীয় ঝড় ‘সেনইয়া’। ঝড়ে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ৩০ হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছেন। ঝড়টি দুর্বল হলেও দেশের কয়েকটি অঞ্চলে ভারি বৃষ্টি ও শক্তিশালী বাতাসের সতর্কতা বহাল রয়েছে। থাইল্যান্ডের বিভিন্ন হোটেলে আটকে পড়া ১,৪৫৯ মালয়েশীয় নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে; আরও প্রায় ৩০০ জনকে উদ্ধারে কাজ চলছে।
একই সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড়–জনিত ঝড়–বৃষ্টি ও ধসের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৪৬ জনের। দেশটির কয়েকটি অঞ্চলে এখনো বন্যার পানি নামেনি, ফলে দুর্যোগ–পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমের পাশাপাশি উদ্ধার তৎপরতা চলমান রয়েছে।











