বিদেশে চিকিৎসা নিতে গেলে ভিসা, বিমান টিকিট, হোটেল বুকিং, হাসপাতালের অ্যাপয়েন্টমেন্টসহ নানা আনুষ্ঠানিকতা অনেক রোগী ও তাঁদের পরিবারের জন্য মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মালয়েশিয়ার মতো চিকিৎসা–সমৃদ্ধ দেশে যেতে হলে ভাষাগত বাধা, পরিবেশগত অচেনাভাব এবং প্রক্রিয়াগত জটিলতা বাংলাদেশি রোগীদের জন্য পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বিদেশে চিকিৎসা সহায়তার ক্ষেত্রে নতুন সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে কাজ করছে এক্সপ্যাট হাসপাতাল।
বাংলাদেশি রোগীদের সুবিধাকে কেন্দ্র করে এক্সপ্যাট তাদের সেবার কাঠামো সাজিয়েছে। উন্নত চিকিৎসা মান, তুলনামূলক সাশ্রয়ী খরচ এবং নিরাপদ পরিবেশের কারণে মালয়েশিয়া বর্তমানে বাংলাদেশের রোগীদের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। সেই যাত্রাকে ঝামেলামুক্ত করতে প্রতিষ্ঠানটি ভিসা সহায়তা থেকে শুরু করে ভ্রমণ, হোটেল বুকিং, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট, হালাল খাবারের ব্যবস্থা, মেডিকেল টেস্ট সমন্বয় এবং দেশে ফেরার পর অনলাইন ফলো–আপ সেবা—সবকিছু এক জায়গায় প্রদান করছে।

আরও
এই সমন্বিত সেবাকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার পর্যটনমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন, যা এ সহযোগিতার গুরুত্বকে আরও তুলে ধরে। চুক্তির অংশ হিসেবে ২৬ নভেম্বর প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারের ভেতরে উদ্বোধন করা হয় বাংলাদেশি রোগীদের জন্য বিশেষভাবে পরিকল্পিত ‘এক্সপ্যাট বুথ’।
নতুন বুথটিকে বাংলাদেশি রোগী ও তাঁদের পরিবারের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখানে থাকবে বাংলাভাষী সহায়তা, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় টেস্টের সমন্বয়, তথ্য নির্দেশনা এবং যাত্রাপথের প্রতিটি ধাপে ব্যক্তিগত গাইডেন্স। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, সাংবাদিক ও হাসপাতাল কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশিরা বিদেশে চিকিৎসা নিতে গিয়ে যেসব অনিশ্চয়তা ও ভাষাগত প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন, এই বুথ তাদের সেই সমস্যাগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেবে।
প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টার কর্তৃপক্ষ জানায়, এক্সপ্যাট-এর সঙ্গে এই সহযোগিতা মালয়েশিয়ার মেডিকেল ট্যুরিজমকে আরও শক্তিশালী করবে। বাংলাদেশি রোগীদের জন্য আস্থা ও সেবার একটি নতুন কাঠামো তৈরি হওয়ায় দুই দেশের চিকিৎসা–বাণিজ্যিক সম্পর্কও আরও গভীর হবে। এক্সপ্যাট বুথের উদ্বোধন শুধু একটি সেবা কেন্দ্র স্থাপন নয়, বরং বিদেশে চিকিৎসা নিতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের জন্য নিরাপত্তা, স্বস্তি এবং মানবিক সহায়তার নতুন যাত্রাপথের সূচনা।











