মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতা নিশ্চিত করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটি বাংলাদেশ সরকারকে এমন বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির একটি তালিকা পাঠাতে অনুরোধ করেছে, যারা মালয়েশিয়ার নির্ধারিত ১০টি কঠোর মানদণ্ড পূরণ করতে সক্ষম। মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ২৭ অক্টোবর পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ হাইকমিশনকে আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এসব যোগ্য এজেন্সির নাম জমা দিতে হবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়ায় অনুমোদিত এজেন্সির সংখ্যা ‘যৌক্তিকীকরণ’ করা। এর মাধ্যমে একটি মানসম্মত, নৈতিক ও স্বচ্ছ শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় যোগ্য এজেন্সিগুলোর অনুমোদন দেবে।
তবে শ্রমিক অধিকারকর্মীরা এই উদ্যোগ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, নতুন এই কাঠামোর আড়ালে আবারও পুরোনো “সিন্ডিকেট ব্যবস্থা” ফিরে আসতে পারে। কুয়ালালামপুরভিত্তিক শ্রম অধিকার বিশেষজ্ঞ অ্যান্ডি হল বলেন, যদি মানদণ্ডগুলো কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়, তবে খুব অল্পসংখ্যক এজেন্সি যোগ্য বিবেচিত হবে— যা কার্যত নতুন আকারে “সিন্ডিকেশন”-এর পথ খুলে দিতে পারে।
আরও
মালয়েশিয়া সরকার যে ১০টি মানদণ্ডে এজেন্সি বাছাই করবে, তার মধ্যে রয়েছে— ন্যূনতম পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা, অন্তত তিন হাজার শ্রমিক প্রেরণের রেকর্ড, তিনটি দেশে কাজের অভিজ্ঞতা, ১০ হাজার বর্গফুটের স্থায়ী অফিস, বৈধ লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকা ইত্যাদি। এ ছাড়াও আন্তর্জাতিক নিয়োগদাতার কাছ থেকে অন্তত পাঁচটি সুপারিশপত্র থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে মাত্র ১০০টি বাংলাদেশি এজেন্সিকে শ্রমিক পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, ওই সিন্ডিকেট ব্যবস্থা শ্রমিকদের খরচ বাড়িয়ে দেয় এবং প্রতিযোগিতা সীমিত করে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এবারও একই ধরনের প্রভাবশালী গোষ্ঠী সুবিধা নিতে পারে। তাই তারা বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন— নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যেন সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা হয়।











