মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থানরত প্রবাসীদের মধ্যে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। কুয়ালালামপুর অভিবাসন দফতরের সামনে প্রতিদিন ভোরের আগেই শতাধিক বিদেশি নাগরিক সারি দেন যাতে সকাল খুললেই তারা ‘পিআরআরএম ২.০’ কর্মসূচির আওতায় দ্রুত আবেদন করতে পারেন। অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিদিন প্রায় ১৫০টি আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করা যায়—তাই অনেকেই আগের রাত থেকেই লাইনে দাঁড়ান।
মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কুয়ালালামপুরে মোট ৭,৫৯৫ জন অবৈধ প্রবাসী এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন; তাদের মধ্যে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, নেপাল, মিয়ানমার, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা নাগরিক আছেন। কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন পর দেশে ফেরার কারণে পরিবারের অসুস্থতা, চাকরির প্রতারণা কিংবা আইনি ঝুঁকি নিয়ে অনেকেই স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করছেন—কেউ কেউ দশ বছরও ধরে অবৈধভাবে ছিলেন। আবেদন প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীর ছবি তোলা, আঙ্গুলের ছাপ সংগ্রহ ইত্যাদি ধাপ থাকায় প্রতিদিন ক্ষমতা সীমিত থাকে; তাই কম ভিড়ের রাজ্যগুলোতেও আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
পিআরআরএম ২.০-কে নিয়ে শর্তও নির্ধারণ করা হয়েছে—বৈধ পাসপোর্ট, আগামী ১৪ দিনের মধ্যে ফেরার টিকিট এবং ৫০০ রিঙ্গিত জরিমানা পরিশোধ করতে হবে; অনুমোদিত হলে ২০ রিঙ্গিত মূল্যের একটি অস্থিতিশীল বিশেষ পাস দেয়া হয়, যা দেশে ফেরার দিন পর্যন্ত বৈধ থাকবে। তবে কালো তালিকা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে কেউ অংশ নিতে পারবে না। অভিবাসন পরিচালক নাগরিকদের জরুরি সতর্ক করেও বলছেন, ধরা পড়ার আগে নিজে থেকেই আত্মসমর্পণই উত্তম বিকল্প।
আরও
বিশ্লেষকরা মনে করেন, পিআরআরএম ২.০ মালয়েশিয়ার জন্য মনুষ্যবাদী কূটনীতি এবং একই সঙ্গে জনসংখ্যা ও শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণের অংশ। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অবস্থায় থাকা শ্রমিকরা আইনি জটিলতা এড়িয়ে সহজে দেশে ফেরার পথ পাচ্ছেন, যা তাদের জন্য শিথিলতাও বয়ে আনছে—কিন্তু সবাইকে শর্তাবলী সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে।











