মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর পাল্টাপাল্টি অবস্থানে পরিস্থিতি যখন জটিল, ঠিক তখনই ইরানের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে আগুনে ঘি ঢাললেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ইরান অনুরোধ করলেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ওই বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলা হয়েছে, ‘তাদের ধ্বংস করার জন্য একটি ক্ষেপণাস্ত্রই যথেষ্ট।’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই বক্তব্য নতুন করে গভীর উদ্বেগ ও উত্তেজনা তৈরি করেছে।

এদিকে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা রাতভর তেহরানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সামরিক সূত্রের দাবি, অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের ১ হাজার ২৫০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এই সংঘাতের মধ্যে ইরানে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ৬ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানা গেছে। তবে নিহতদের পরিচয় বা বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
আরও
সংঘাতের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে দুটি ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান। তবে এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা দুবাইয়ের একটি এলাকায় হামলা চালিয়েছে, যেখানে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছিলেন। প্রাথমিক প্রতিবেদনে সেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্যসহ একাধিক সেনা উপস্থিত থাকার কথা বলা হলেও, যুক্তরাষ্ট্র এখনো এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম হ্যাবারলারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান ও কড়া বক্তব্যে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তবে উত্তেজনা প্রশমনের কোনো সুস্পষ্ট ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যাচ্ছে না।











