ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ এক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে তার মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও রোববার (১ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সি ও তাসনিম নিউজ এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। গতকাল গভীর রাতেই এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা দাবি করেছিলেন যে, যৌথ অভিযানে খামেনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং তার মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে খামেনির মরদেহের ছবি দেখানো হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানে খামেনির প্রাসাদ লক্ষ্য করে যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র একযোগে হামলা চালায়, সেই আঘাতেই তিনি নিহত হন। পরবর্তীতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া প্রাসাদের চত্বর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন ইরানি উদ্ধারকারীরা। স্যাটেলাইটে প্রকাশিত ছবিতে প্রাসাদটি পুরোপুরি বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখা গেছে। হামলার পর প্রায় সারা দিন ধরে ইরান এই খবর অস্বীকার করে একে শত্রুদের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বলে অভিহিত করলেও শেষ পর্যন্ত দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে শোক প্রকাশ করা হয়।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় খামেনির সঙ্গে তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য—মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ ও জামাতা নিহত হওয়ার খবরও নিশ্চিত করা হয়েছে। খামেনির মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। বর্তমানে ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলে নিয়মিত অনুষ্ঠানের পরিবর্তে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত প্রচার করা হচ্ছে এবং পর্দায় কালো ব্যানার প্রদর্শন করা হচ্ছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এক বিবৃতিতে এই মৃত্যুর জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে বলেছে, এই শাহাদাত হবে ‘অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন এক বিদ্রোহের’ সূচনা।









