ইরানে আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে আকস্মিক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। খবর জেরুজালেম পোস্ট’র। স্থানীয় সময় শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইরান ভূখণ্ডে হামলা শুরু করেছে ইসরাইল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার সকালে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। ইসরাইলি নাগরিকদের সুরক্ষিত এলাকার কাছাকাছি থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
ফারস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের জমহৌরি এলাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধের শঙ্কার মধ্যেই তেহরানে আকস্মিক হামলা চালালো ইসরায়েল। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন আরেক যুদ্ধ শুরু হলো বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও
এর আগে ইসরাইল-ইরান যুদ্ধ ২০২৫ সালের ১৩ জুন তারিখে ইরানে ইসরাইলি হামলার মাধ্যমে শুরু হয় এবং ইরানের কিছু পারমাণবিক স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি এবং আবাসিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়। উক্ত হামলায় ইরানের মুহাম্মাদ বাকেরি, হুসাইন সালামি এবং আমির আলী হাজিজাদেহ’র ন্যায় কয়েকজন সিনিয়র সামরিক কমান্ডার ছাড়াও কয়েকজন পারমাণু বিজ্ঞানী এবং কিছু বেসামরিক নাগরিক শাহাদাত বরণ করেন।
ইসরাইলের এই হামলার লক্ষ্য হিসেবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচী সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা, ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন ঘটানো, ইসরাইলের অস্তিত্বের জন্য ইরানের অব্যাহত হুমকি হ্রাস করা, গাজা যুদ্ধ হতে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়া এবং ঐ যুদ্ধে তাদের পরাজয় ভুলিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আল-জাজিরা ও এক্সিওসের ন্যায় পশ্চিমা ও আরব মিডিয়াগুলোর প্রতিবেদন অনুসারে, ইসরাইল দীর্ঘদিন থেকে ইরানের উপর হামলার পরিকল্পনা করছিল এবং উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় ছিল। ইরানে ইসরাইলের হামলা, আন্তর্জাতিক পরমাণু কমিশনের (আইএইএ) ইরান বিরোধী প্রস্তাব অনুমোদন, পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছানোর ব্যপারে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইরানকে ৬০ দিনের বেঁধে দেওয়া সময়ের পর এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবুজ সংকেতে সংঘটিত হয়। ইরানের সাথে ইসরাইলের যুদ্ধের দশম দিনে অর্থাৎ ২ জুলাই সকালে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইসরাইলের আগ্রাসনের সমর্থনে এবং তাদের সহযোগিতায় ফোরদু, নাতানয এবং ইস্ফাহান পরমাণু স্থাপনাগুলোতে বোমা বর্ষণ করে।
ইসরাইলের এই হামলার জবাবে ইরান কয়েকটি ধাপে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করার মাধ্যমে অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৩ পরিচালনা করে; উক্ত অভিযানে ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক, গোয়েন্দা ও গুপ্তচরবৃত্তি কেন্দ্র বিশেষ করে ওয়াইজম্যান ইনস্টিটিউট, আমান, মোসাদ ও কিছু বিমান ঘাঁটিকে ইরান লক্ষ্যবস্তু করে।










