ইরানে প্রাণঘাতী সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পুনরায় খুলে দেওয়ার পরপরই নতুন করে আন্দোলনে নেমেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের গভীর আশঙ্কার মাঝেই রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাজার হাজার শিক্ষার্থী এই বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সময় রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শীর্ষস্থানীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান—তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়, শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, আমিরকবির বিশ্ববিদ্যালয় এবং শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। এ সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আধাসামরিক বাসিজ সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে তেহরান ও মাশহাদের ফেরদৌসি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনীর ধাওয়া ও ব্যাপক ধরপাকড়ের দৃশ্য উঠে এসেছে।
দেশের অভ্যন্তরে এমন তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের বরাত দিয়ে জানা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ইরান নিজেদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৬০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ বা তার নিচে নামিয়ে আনতে রাজি হয়েছে। তবে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ প্রায় ৩০০ কেজি ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার মার্কিন প্রস্তাবে তেহরান এখনো সম্মতি দেয়নি। খুব শিগগিরই ইরান তাদের এই নতুন প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে দুবার বিমানবাহী রণতরি ও বিপুল সমরাস্ত্র মোতায়েন করে নজিরবিহীন সামরিক চাপ সৃষ্টির পরও ইরান কেন এখনো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পুরোপুরি ‘নতিস্বীকার’ করছে না, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, তেহরানের এমন অনড় অবস্থানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বেশ কৌতূহলী। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তাঁরা কোনোভাবেই চাপের মুখে নতিস্বীকার করবেন না, যদিও ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তির একটি খসড়া প্রস্তাব আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি নিশ্চিত করেছেন, আগামী বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরবর্তী দফার এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।












