ইরানের রাজধানী তেহরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পারান্দ শহরে ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় আগুনের সূত্রপাত হলে মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে এবং শহরের আকাশ কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। ঘনবসতিপূর্ণ এবং শিল্প এলাকায় এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী বহু দূর থেকেও দৃশ্যমান ছিল, যার ভিডিও এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
পারান্দ ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আগুনের সূত্রপাত কোনো আবাসিক ভবন বা শিল্পকারখানা থেকে হয়নি। মূলত পারান্দ নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে থাকা নলখাগড়ার বন থেকেই আগুনের উৎপত্তি। শুষ্ক আবহাওয়া এবং প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত পার্শ্ববর্তী এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে থাকে। তবে আগুনের উৎপত্তিস্থলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও সামরিক স্থাপনার কাছাকাছি হওয়ায় সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বহুগুণ বেড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারি দপ্তর থেকে তাৎক্ষণিক বিবৃতি দিয়ে জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার প্রাণপণ চেষ্টা চালায়। নদীর তীরের দুর্গম ও প্রতিকূল পরিবেশ সত্ত্বেও দমকলকর্মীরা আগুন নেভাতে সক্ষম হন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল এলাকার কাছাকাছি আগুন লাগলেও এখন পর্যন্ত কোনো বসতবাড়ি বা গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেনি।
আরও
পারান্দ শহরটি মূলত একটি পরিকল্পিত নগরী, যেখানে প্রচুর কলকারখানা এবং সরকারি আবাসন প্রকল্প রয়েছে। এ কারণে আগুনের ঘটনার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলে। আগুনের তীব্রতা কমে এলেও ধোঁয়ার কারণে আশপাশের এলাকায় দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় যাতায়াতে সাময়িক বিঘ্ন ঘটছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
এদিকে, এটি নিছক কোনো প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। ইরানের সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে যেকোনো অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের ঘটনাকেই বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই আগুনের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।











